প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ যতক্ষণ তরুণ থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার কোন পরিকল্পনা নেই, বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি। তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে তাদের ‘ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড’ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে, ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সোমবার (১০ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আসলে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের ফল। তিনি আরও জানান, ইরান ও ওমানের মধ্যে একটি নৌ-পথ নিয়ে আলোচনা স্বভাবতই এই দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের একটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়।
মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র এবং জায়নবাদী শাসনব্যবস্থা কর্তৃক ইরান ও এই জলপথের ওপর আরোপিত শর্তাবলির ওপর নির্ভর করছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বজায় থাকায় হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ বা শর্ত নেই।
বাকায়ি জানান, যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত বা পরিবেশ থাকবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে এবং সেই সাথে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ট্র্যানজিট ফি আরোপ করা হতে পারে কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাকায়ি বলেন, এ ধরনের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে ইরান কোনো আলোচনা করছে না।
বাকায়ি আরো জানান, আলোচনা চলাকালীন সময়ে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত বিষয় এবং সামুদ্রিক সেবা প্রদানের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, এই সেবামূলক কার্যক্রমের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কিছু চার্জ থাকবে।
হরমুজ প্রণালীর কেন্দ্রীয় পথে মাইন অপসারণ নিয়ে বাকায়ি ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই ধারা লঙ্ঘন করেছে এবং সেখানে ইরানের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ওই সমঝোতা স্মারকে ইরানকে হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনাটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
যার মধ্যে জলপথটি মাইনমুক্ত ও নিরাপদ রাখার উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি আবারও বলেন, এই বিষয়টি দুই উপকূলীয় রাষ্ট্র অর্থাৎ ইরান ও ওমানের মধ্যেই সমাধান করা উচিত।
বাকায়ি আরো বলেন, একটি চুক্তির মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ রুটগুলোকে একটি কেন্দ্রীয় রুটে রূপান্তর করা হবে। তিনি যুক্তি দেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী একটি রুট তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন