প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদের কঠোর অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে ‘সীমা অতিক্রম’ করেছেন বলে মনে করছেন অধিকাংশ আমেরিকান।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রবিবারে প্রকাশিত এই সমীক্ষায় দেখা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ৩৯ শতাংশ ট্রাম্পের অভিবাসন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অথচ দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে এই সমর্থনের হার ছিল ৪৯ শতাংশ।
জনসমর্থনের এই পতনের পরও অর্থনীতি কিংবা ইরাননীতির তুলনায় অভিবাসন ইস্যুতে এখনো তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছেন ট্রাম্প। জনমত জরিপ সত্ত্বেও ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে তার শক্ত অবস্থান এখনো অটুট। পার্টির প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি সমর্থন করে যাচ্ছেন।
যদিও মেয়াদের শুরুতে রিপাবলিকানদের মধ্যে এই সমর্থনের হার ছিল ৯০ শতাংশের কাছাকাছি, তবু নিজের মূল রাজনৈতিক ঘাঁটিতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তা ছাড়া অর্থনীতি এবং ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ-সম্পর্কিত ট্রাম্পের নীতির চেয়ে অভিবাসন নীতিতেই তার দলীয় সমর্থকরা বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক ক্ষতি নিয়ে স্বয়ং ট্রাম্পের অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত ‘মাগা’ ভোটারদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এই নীতিকে সঠিক বলে মনে করেন। আইনি এবং বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে বর্তমানে আমেরিকার সাধারণ জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত। দেশটির ৫০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন, বৈধ অভিবাসনে সীমা আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প নীতিগত সীমানা ছাড়িয়ে গেছেন।
একইভাবে ৪৭ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়নে বা হস্তান্তরে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৩ জন ট্রাম্পের নীতিকে ‘ঠিকঠাক’ মনে করেছেন এবং মাত্র ২ জন মনে করেছেন তার আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল।
অবশ্য রিপাবলিকানদের মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ বা তার কম অংশ মনে করেন ট্রাম্প অতিবাড়াবাড়ি করেছেন। তবে সড়ক অনুসন্ধানের মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিতকরণের এবং বিভিন্ন নগরীতে কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্ট (আইসিই) পাঠানোর সিদ্ধান্তকে বেশির ভাগ সাধারণ নাগরিকই ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মেইন অঙ্গরাজ্যে ট্রাফিক তল্লাশি ও আইসিই এজেন্টদের গুলিবর্ষণের দুটি ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়।
যদিও রিপাবলিকানদের বড় অংশ এই ধরনের তল্লাশি বা অভিযানে ট্রাম্পের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। অন্যান্য জাতীয় ইস্যুতে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ আমেরিকানদের বড় একটি অংশ অসন্তুষ্ট। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ট্রাম্পের প্রতি মাত্র ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক আস্থা প্রকাশ করেছেন, যা দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর সময়ের ৪০ শতাংশ সমর্থন থেকেও কম।
প্রায় ৭০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘খুব খারাপ’ অথবা ‘মোটামুটি খারাপ’ হিসেবে দেখছেন। তবে রিপাবলিকানদের ৬০ শতাংশ অর্থনীতি নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও ডেমোক্র্যাট ও নির্দলীয় ভোটারদের মধ্যে সেই হার যথাক্রমে ১০ এবং ২০ শতাংশ।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বরাবরই কম হলেও রিপাবলিকানদের মাঝে সেখানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া নাগরিকদের মাত্র ৩০ শতাংশ ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা নীতি সমর্থন করেছেন, কিন্তু রিপাবলিকানদের সমর্থনের হার গত বছরের ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ শতাংশে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১০০ দিনের গণনা শুরু হওয়ার মুখে ডেমোক্রাট দল ট্রাম্পের স্বাস্থ্যসেবা বাজেট কর্তন, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি এবং ইরান যুদ্ধকে প্রধান ইস্যু হিসেবে সামনে এনে রাজনৈতিক প্রচার জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন