প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে কৃষিজমির মাঝখানে নির্মাণাধীন এন এস ব্রিকফিল্ড পুনরায় চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রিকফিল্ডটির নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম পুনরায় শুরুর চেষ্টা চলছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ব্রিকফিল্ডটির কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা।
গতকাল সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হারুয়ালছড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, আলা উদ্দীন, নুরুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, কৃষিজমির মাঝখানে ইটভাটা স্থাপন ও চালু হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইটভাটাটি চালুর চেষ্টা করা হলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। কৃষিজমি ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাঁরা অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সাল থেকেই একটি চক্র সেখানে ব্রিকফিল্ড নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও ব্রিকফিল্ড নির্মাণের কাজ চলছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এটি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কসংলগ্ন ফটিকছড়ি মৌজায় ২০১৮ সালে এন এস ব্রিকফিল্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি বেলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি আবারও ব্রিকফিল্ডটি চালুর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে ব্রিকফিল্ডটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নোটিশ দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহও কৃষিজমির মধ্যে ইটভাটা স্থাপনকে কৃষির জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের স্থাপনা কৃষি ও কৃষকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ব্যাপারে ব্রিকফিল্ডের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, একটি চক্র হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে তাঁর পিছু নিয়েছে। তিনি বলেন, আমি অবৈধ মদের ব্যবসাও করছি না গাজার ব্যবসা করছি না। বৈধভাবে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্রিকফিল্ডের কাজ শুরু করেছি। ব্রিকফিল্ড চালু করার জন্য আদালতের সকল আদেশের কপি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবী, কৃষিজমি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এন এস ব্রিকফিল্ডের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন