প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা। তবে কর্মসূচি চলাকালে একদল ঠিকাদার ও তাঁদের অনুসারীরা বাধা দিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য। তাঁর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি বরিশালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত ‘গুপ্ত মিছিলেও’ তিনি অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাকিব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি বলয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মোমেন সিকদার নামের এক ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেওয়া এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রভাব খাটাচ্ছেন। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থান করে কমিশন ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগও করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচির একপর্যায়ে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আয়োজকদের দাবি, যুবদলের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ঠিকাদার মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম এবং অফিস সহকারী তন্ময় ঘটনাস্থলে এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মানববন্ধন চলাকালে মোমেন সিকদারকে কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ‘এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না’—এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে আয়োজকদের দাবি।
তবে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যাওয়ার সময় তিনি কয়েকজনকে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি শুধু সেখানে কেন দাঁড়ানো হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন। মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে খুদেবার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানিয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
মানববন্ধনে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সোহেল খান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুম্মান স্বাধীন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, মো. রাব্বিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রকৌশলী ঠিকাদারদের সঙ্গে সিলেটে ভ্রমণে যান বলে জানা যায়। ওই সময়ে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন