প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানিয়েছেন, বিজয় দিবসের আগেই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নতুন ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে।
জেলা প্রশাসন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এই তথ্য জানিয়ে বলেন, নতুন ভাস্কর্য বিজয় দিবসের পূর্বেই স্থাপন করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য উপযুক্ত এবং যথাযথ জায়গা নির্ধারণ, নকশা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে ১৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য পুনর্নির্মাণ বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব বিষয় আলোচিত হয়েছে। সভায় জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক নেতা, এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কমিটিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার (পদাধিকারবলে), জেলা পরিষদের প্রশাসক (পদাধিকারবলে), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায়, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে বক্তব্য রাখেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৬ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের সড়কদ্বীপে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্যের নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। সেই সময়ে বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আমরা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন উপস্থিত ছিলাম। এরপর গত ১৪ জুলাই পত্রপত্রিকায় দেখলাম, আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে। দিনের আলোতে কে বা কারা ভাস্কর্য ও চত্বর ভেঙে ফেলছে তা প্রশাসনের কেউ বলতে পারেনি। পৌরসভার কেউ আমাদের এই বিষয়ে কিছু জানায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আমাদের গর্ব, ঝিনাইদহের গর্ব, বাংলাদেশের গর্ব। তার নামে হওয়া চত্বর ও ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার ঘটনা আমরা পরিবারের সদস্যরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা চাই, একই স্থানে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য ও চত্বর পুনঃনির্মাণ করা হোক।’
তবে, জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বলেন, যে মহাসড়কের মাঝখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে চত্বর ও ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল, ওই জায়গাটি বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার প্রজেক্টের আওতায় চলে গেছে।
এরপর বক্তব্য রাখেন যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের ৬ লেন প্রকল্পের ফেজ-১ এর উপসহকারী প্রকৌশলী নিলন আলী। তিনি বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছয় লেন প্রকল্পের আওতায় যশোর-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ও ঝিনাইদহ-ঢাকা মহাসড়কের চৌমুহনীতে বড় আকারের ইন্টারসেকশন (মোড়) হবে। ইন্টারসেকশনের ক্ষেত্রে সেখানে ভাস্কর্য রাখাও কঠিন হবে। কারণ, প্রকল্পের নকশায় ইন্টারসেকশনের মাঝখানে কোনো স্থাপনা রাখা হয়নি।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ বলেন, বিগত সময়ে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের নাম কেউ সেভাবে জানতো না। সেখানে প্রচারণার অভাব ছিল। মহাসড়কের মাঝখানে স্থাপনাটি অজানা কারণে আওয়ামী লীগের সরকার বন্ধ করে দেয়। সেখানে ভাস্কর্য ও চত্বর নির্মাণে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে, যার কারণে ভাস্কর্য পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামালউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে স্থাপিত চত্বর ও ভাস্কর্য সম্পর্কে জেলার অনেকেই অন্ধকারে ছিলেন। অনেকেই জানতেন না, সেখানে আসলে কার ভাস্কর্য ছিল। কারণ, বিগত সময়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হয়নি।
সভায় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, প্রয়োজন অনুভব হলে কমিটিতে দুই-একজন সদস্য যুক্ত করা হতে পারে। আশা করছি, কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য উপযুক্ত জায়গা যাচাই-বাছাই করবে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই বিষয়ে পরবর্তী কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন