প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে নেওয়া একটি সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
এখন বিষয়টি ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব এবং ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন।
বঙ্গবন্ধু ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগুন। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচে তার নিষিদ্ধ থাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞা এক বছরের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি।
এই বিতর্ক আরও বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ফাউল ছিল না, বরং দুই খেলোয়াড়ের স্বাভাবिक সংঘর্ষ। পরে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ার পর তিনি সামাজিক মাধ্যমে ফিফাকে ধন্যবাদও জানান।
এরপর থেকেই ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সমালোচকেরা প্রশ্ন তুলতে থাকেন। যদিও ফিফা জানিয়েছে, সিদ্ধান্তটি তাদের স্বাধীন শৃঙ্খলা কমিটি নিয়েছে এবং এতে ইনফান্তিনোর কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা ছিল না।
তবুও, লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির কাছে অভিযোগ করার ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ইনফান্তিনো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছেন। এমনকি অনুমতি ছাড়া তার কোনো ভূমিকা থাকলে সেটি ক্ষমতার গুরুতর অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
এদিকে, ইউরোপের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও বিষয়টি তদন্তের দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্বকাপ চলাকালীন লাল কার্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন ন্যায়বিচার ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনও তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, এটি শুধু একটি ম্যাচের বিষয় নয়; বরং ফুটবলে নৈতিকতা, সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা এবং নিয়মের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার প্রশ্নও।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে, তবুও বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের মতে, এখন মূল প্রশ্ন হলো বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে রাজনৈতিক প্রভাব কি শৃঙ্খলাজনিত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে? আর সেই প্রশ্নই এখন ইনফান্তিনো ও ফিফার জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন