প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একসময় তালেবান শাসনের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল আফগান নারী ফুটবলারদের। ফুটবল মাঠে খেলতে তো দূরের কথা, স্বাভাবিক জীবনযাপনই হয়ে উঠেছিল কঠিন।
কিন্তু আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা হার মানেননি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংগ্রাম, অপেক্ষা এবং অদম্য সাহসের পর তারা আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন।
২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর আফগানিস্তানে নারীদের সব ধরনের খেলাধুলা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। তারপর জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিপীড়নের ভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
তাদের মধ্যে ছিল গোলরক্ষক ফাতিমা ইউসুফি এবং মিডফিল্ডার মোনা আমিনিও।
ফাতিমা মাত্র একটি ব্যাকপ্যাক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিল একমাত্র একটি স্বপ্ন, তা হলো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল খেলবেন।
ফাতিমা ও মোনার আফগান নারী দলের ১৩ জন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় বসতি গড়েছেন। এরপর গত পাঁচ বছর তারা অনুশীলন চালিয়ে গেছেন, অপেক্ষা করেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগের জন্য।
অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিলে সেই সুখবর আসে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আফগান নারী দলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অনুমোদন দেয়।
বর্তমানে আফগান উইমেন ইউনাইটেড কর্মসূচির ২৩ সদস্য নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রয়েছেন। সেখানে তারা কুক দ্বীপপুঞ্জের একটি দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবেন।
মোনা আমিনি বলেন, ‘যেদিন শুনলাম আমরা আবার আফগানিস্তানের পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে পারব, সেটি ছিল বিশেষ একটি দিন। গত চার-পাঁচ বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফল এটি।’
ফাতিমা ইউসুফিও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আসার সময় আমরা সবকিছু হারিয়েছিলাম। পরিবার, শৈশবের স্মৃতি এবং জাতীয় দল। আবার জাতীয় দল হিসেবে খেলতে পারব, এর চেয়ে বড় সুখের খবর আর হতে পারে না।’
আফগান নারী দলের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল ২০১৮ সালে। এরপর দীর্ঘ বিরতি। তবে গত বছর ‘ইউনাইট’ টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে লিবিয়ার বিপক্ষে জয় পায় দলটি। তিন বছর পর জাতীয় সঙ্গীত শোনার সেই মুহূর্তটিকে জীবনের অন্যতম আবেগঘন অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন খেলোয়াড়রা।
আফগানিস্তানে থাকা নারী ও কিশোরীদের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্বও অনুভব করেন তারা। মোনা বলেন, ‘আমরা তাদের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ভবিষ্যতের আফগান নারী জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই।’
ফাতিমার বিশ্বাস, তাদের দল একদিন সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাতে চাই মেয়েরাও সমাজের অংশ, তারা শিক্ষা ও খেলাধুলার অধিকার রাখে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন