প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ-র তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এই হামলাগুলোর মধ্যে কিছু এলাকায় ফসফরাস গোলার ব্যবহার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নাবাতিয়েহ ও টায়ার জেলার বিভিন্ন স্থানে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে বলে এনএনএ জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নাবাতিয়েহ জেলার জাওতার আল-শারকিয়াহ, মেফাদুন এবং নাবাতিয়েহ আল-ফাওকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করে ইসরাইলি বাহিনী। সংস্থাটি জানায়, নাবাতিয়েহ আল-ফাওকা ও জাওতার আল-শারকিয়াহ এলাকায় ফসফরাস গোলার ব্যবহারের তথ্যও রয়েছে।
এছাড়া, টায়ার জেলার ওয়াদি জিবকিন, হারিস ও হাদাথা এলাকার উপকণ্ঠেও গোলাবর্ষণ করা হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নাবাতিয়েহ, টায়ার, বিন্ত জবেইল ও মারজায়ুন জেলার বিভিন্ন স্থানে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, লেবাননের সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল মারজায়ুন ও বিন্ত জবেইল জেলার মাজদাল সেলম ও আল-গানদুরিয়াহ এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর ফেলে যাওয়া দুটি অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করেছে। পরবর্তীতে সেগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
লেবাননে চলমান সংঘাতে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় ৪ হাজার ৩৮৬ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৪০৭ জন আহত হয়েছেন। এই হিসাব ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য।
বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিও অত্যন্ত গুরুতর। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের ৯ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, লেবাননে ৩ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ তখনও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ছিলেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এই সংখ্যা ১২ লাখেরও বেশি ছিল।
জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননে লেবাননের সেনাবাহিনীর মোতায়েন, ইসরাইলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অচলাবস্থা বিদ্যমান।
জাতিসংঘের লেবাননবিষয়ক শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিশনটির প্রধান সম্প্রতি বলেছেন, বছরের শেষের দিকে ইউনিফিলের নির্ধারিত প্রত্যাহারের আগে দক্ষিণাঞ্চলের নিরাপত্তা ও মানবিক কার্যক্রম লেবাননের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকরভাবে হস্তান্তর করা জরুরি।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে গোলাবর্ষণ এবং ফসফরাস গোলার ব্যবহার চুক্তির ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এর আগে অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইল কাঠামোগত চুক্তির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন