প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলের আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত নতুন এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, বিরোধীদলীয় সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর তুলনায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা ডি সিলভা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাজিলের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডাটাফোলহা’ কর্তৃক শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য দ্বিতীয় ধাপের (রান-অফ) নির্বাচনে লুলার ঝুলিতে ৪৮ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারো ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারেন। এর আগে জুন মাসে পরিচালিত জরিপেও লুলার পক্ষে ৪৭ শতাংশ এবং ফ্লাভিওর পক্ষে ৪৩ শতাংশ ভোটারের সমর্থন জানা গিয়েছিল। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে নির্বাচনী লড়াই যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বর্তমান প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
ব্রাজিলের বিদ্যমান নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, যদি প্রথম ধাপে কোনও প্রার্থী মোট বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি পেতে ব্যর্থ হন, তবে সর্বাধিক ভোট পাওয়া শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের রান-অফ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ডাটাফোলহার প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাব্য চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট লুলা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ৪০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে। অপরদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ৩২ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। এছাড়া অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভেতর রোনালদো কায়াদো ৪ শতাংশ এবং রোমেউ জেমা ও রেনান সান্তোস উভয়ই ৩ শতাংশ করে ভোট পেতে পারেন বলে জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে।
এই পিছিয়ে পড়ার ঘটনা বিরোধী শিবিরের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এটি এমন সময় ঘটেছে, যখন সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো এবং তার সৎমা, ব্রাজিলের সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ পারিবারিক ও রাজনৈতিক কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। গত জুন মাসে মিশেল বলসোনারো অভিযোগ তোলেন যে, ফ্লাভিও প্রকাশ্যে দলীয় নীতি ও কার্যক্রমে তার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তাকে ‘অশ্রদ্ধা’ করেছেন। বিতর্ক এড়াতে চলতি সপ্তাহে সৎমার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন সিনেটর ফ্লাভিও। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ডানপন্থী ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্রাজিলের ওপর সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘটনার পরপরই এই জনমত জরিপটি পরিচালিত হয়। গত সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিখ্যাত ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে প্রেসিডেন্ট লুলার প্রশাসন আমেরিকার এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সকল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে, ডাটাফোলহা সংস্থা জুলাইয়ের ২২ থেকে ২৩ তারিখের মধ্যে ব্রাজিলের ২,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর এই জরিপ পরিচালনা করে। গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই জনমত জরিপে ভুলের মাত্রা বা ‘মার্জিন অব এরর’ দুই শতাংশ (প্লাস বা মাইনাস) ধরা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন