প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননের বৃহত্তম কারাগার রুমিয়েহে প্রায় ৪০০ বন্দি টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এই অনশনটি সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের প্রতিবাদে শুরু হয়েছে এবং এতে অংশ নেওয়া অনেক বন্দির শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক আইনজীবী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) লেবাননের আইনজীবী ও ত্রিপোলি বার অ্যাসোসিয়েশনের কারাবন্দিদের অধিকারবিষয়ক কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ সাবলুহ আলজাজিরাকে জানান, প্রায় ৪০০ বন্দি দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশন করছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে প্রতিদিন কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগার থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সাবলুহ আরও জানান, অনশনে থাকা বন্দিরা খাবার, পানি এবং ওষুধ গ্রহণও বন্ধ করে দিয়েছেন। ১২ সেপ্টেম্বর রুমিয়েহ কারাগারের বন্দিরা সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের প্রতিবাদে এই অনশন শুরু করেন। ওই আইন কার্যকর হলে কিছু বন্দি তাৎক্ষণিক মুক্তি পেতে পারতেন, আবার কারও সাজা কমত।
সাধারণ ক্ষমার আইনটি ১২ আগস্ট লেবাননের সংসদে পাস হয়। পরে ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্টের করা আবেদনের পর ১০ সেপ্টেম্বর সাংবিধানিক পরিষদ আইনটির কার্যকারিতা স্থগিত করে। এই ঘটনার পর রুমিয়েহ কারাগারের বন্দিদের পাশাপাশি দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ত্রিপোলিতেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।
অনশনে থাকা অনেক বন্দি সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
ফ্রি প্যাট্রিয়টিক মুভমেন্ট সাধারণ ক্ষমার আইন নিয়ে সাংবিধানিক পরিষদে আবেদন করেছে। দলটির উদ্বেগ, কিছু বন্দির বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগ রয়েছে। আগামী মাসে এ বিষয়ে সাংবিধানিক পরিষদের রায় দেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবাননের কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত বন্দির চাপ ও বিচারিক জটিলতার জন্য সমালোচিত হয়ে আসছে। বর্তমানে দেশটির কারাগারগুলোতে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ বন্দি রয়েছেন, যা মোট ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ। কারাগারের অতিরিক্ত চাপ কমানোও সাধারণ ক্ষমার আইনটির অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
সাবলুহের দাবি, লেবাননের কারাগারগুলোতে অতিরিক্ত বন্দির চাপ ধারণক্ষমতার তুলনায় ৩৩০ শতাংশেরও বেশি। তার ভাষায়, দেশটির কারাগারগুলোর পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক এবং সাধারণ ক্ষমার আইন স্থগিতের মতো বড় পরিবর্তনের চাপ সামাল দেওয়ার অবস্থায় নেই।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালে লেবাননের কারাগারে ৪০ জনের বেশি বন্দি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে কেউ চিকিৎসায় অবহেলার কারণে, কেউ নির্যাতনের শিকার হয়ে এবং কেউ দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও বারবার মামলার তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার কারণে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এই আইনজীবী লেবাননের কারাগারে বিপুলসংখ্যক বন্দির দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য বিচারিক বিলম্বকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৮ ধারায় বিচারপূর্ব আটক রাখার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন