প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইসরায়েলে ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চাপে রয়েছেন। তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও নেতানিয়াহুর পাশে নেই। এখন পর্যন্ত তিনি নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন।
সম্প্রতি, হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে যখন ইসরায়েলের নির্বাচনি জরিপের ফল সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়, তখন নেতানিয়াহুর এক উপদেষ্টা দাবি করেন, 'তিনি জিতছেন'।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে জয় পাওয়ার অবস্থানে নেই। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেও, ট্রাম্প তাকে এখনও স্পষ্ট রাজনৈতিক সমর্থন দেননি। জনমত জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর বর্তমান জোট পেতে পারে ৪৯ থেকে ৫৩টি আসন, যেখানে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ আসন প্রয়োজন। বর্তমানে তার হাতে ৬৮ আসন রয়েছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো জরিপ অনুসারে ৬৭ থেকে ৭০টি আসন পেতে পারে এবং নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক আইডিএফ প্রধান গাদি আইজেনকোট বেশিরভাগ জরিপে এগিয়ে রয়েছেন বলে দেখা যাচ্ছে।
তবে নির্বাচনে নেতানিয়াহুর স্পষ্ট বা একক জয় না পেলেও, পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এমন অবস্থায়, তার মূল কৌশল হবে বিরোধীদের এককভাবে সরকার গঠন ঠেকাতে পর্যাপ্ত ভোট ধরে রাখা। কোনাে দলই এককভাবে সরকার গঠন করতে না পারলে, পুনরায় আরেকটি নির্বাচন হওয়ার আগে, নেতানিয়াহু অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থেকে যেতে পারবেন। এ মুহূর্তে এমন সম্ভাবনাই প্রতীয়মান হচ্ছে।
ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্কের দূরত্ব:
ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে, ট্রাম্পের কিছু ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আশা করেছিলেন যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেবেন। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিচার শেষ করার জন্য তাকে একটি সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার পক্ষে সোচ্চার হন।
কিন্তু ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুই নেতার পররাষ্ট্রনীতির লক্ষ্য এবং অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। ইরান, লেবানন এবং গাজা নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো হলেও, নেতানিয়াহু গত কিছুদিনে যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছেন এবং যে ধরনের নীতি অনুসরণ করছেন, তা ট্রাম্পের পছন্দ নয় এবং এ কারণে তিনি হতাশ।
সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এমন দুটি কর্মকর্তা জানান- মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "বিবি (নেতানিয়াহু) নিজেই নিজের ঘোর শত্রু।”
এছাড়াও, ট্রাম্পের ১৫ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা (বোর্ড অব পিস) নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করায় সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়েছে।
গাজা পরিকল্পনার বিষয়ে মতবিরোধ:
যুক্তরাষ্ট্রের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, হোয়াইট হাউজ নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে একটি নীতিগত ঘোষণা হিসেবে হাতে না নিয়ে বরং নির্বাচনী মৌসুমের রাজনীতি হিসেবেই বিবেচনা করছে।
নেতানিয়াহু পরবর্তীতে ট্রাম্পের দূত জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাজা পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও এটিকে একটি সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেওয়ার জন্য গাজায় হামলা কমানো বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি রাজি হন।
এরপর থেকে, ইসরায়েল গাজায় কিছুটা কম হামলা চালিয়েছে এবং আইডিএফ হলুদ লাইন থেকে পিছু হটেছে, যেখানে চুক্তি অনুযায়ী তাদের মোতায়েন করা কথা ছিল।
কুশনার আগামী সপ্তাহে গাজা পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ইসরায়েল সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান নেতানিয়াহুর প্রতিপক্ষের:
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা, এর মধ্যে আইজেনকোট এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদও রয়েছেন, তারা উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত তাকে সমর্থন দিতে পারেন।
তার সহযোগীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, বিরোধী দলের ব্যক্তিরা পারস্পরিক বন্ধু, দাতা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক মিত্রদের মাধ্যমে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টাদের কাছে বার্তা পাঠিয়ে তাকে নিরপেক্ষ থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।
একজন সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর দুর্বল অবস্থানের কারণে ট্রাম্প তার সঙ্গে কোনও বিষয়ে জড়াতে বা সাহায্য করতে আগ্রহ হারিয়ে থাকতে পারেন।
বর্তমানে ট্রাম্প ইসরায়েলে জনপ্রিয়। তবে তার ইরান চুক্তি এবং সেই চুক্তি বাতিল হওয়ার পর যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে আসার সিদ্ধান্তের কারণে, ইসরায়েলে গত তিন মাসে তার অবস্থান বা ভাবমূর্তি কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে।
ইরান, গাজা, সিরিয়া এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে, ট্রাম্প যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন, তাতেও ইসরায়েলিরা আপত্তি জানিয়েছে।
চারবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া এড়িয়েছেন ট্রাম্প:
সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পকে চারবার প্রশ্ন করা হয়েছে যে, তিনি নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেন কিনা। প্রতিবারই তিনি নেতা হিসেবে তাকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
জুলাই মাসে যখন রেডিও সঞ্চালক হিউ হিউইট জিজ্ঞাসা করেন, ইসরায়েলে এই পদের জন্য কি আরও উপযুক্ত কেউ আছে, তখন ট্রাম্প জানান যে, তিনি নেতানিয়াহুর বেশিরভাগ প্রতিপক্ষকে চেনেন না।
ট্রাম্প সম্প্রতি নেতানিয়াহুকে একজন মহান যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে তিনি এ কথাগুলি অতীতকাল ব্যবহার করে উল্লেখ করেছেন, যা থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, নেতানিয়াহুর সেই সময়ের ভূমিকা এখন আর বর্তমান নেই।
যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প তাদের শেষ বৈঠকে নেতানিয়াহুর ক্ষমার বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে উত্থাপন করেছিলেন, তবুও তিনি এটি নিয়ে কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে আলোচনা করেননি।
ট্রাম্পের কাছে ইসরায়েলের নির্বাচনের গুরুত্ব:
ট্রাম্পের ক্ষমতায় থাকার শেষ দুই বছরে, তার পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক কর্মপরিকল্পনার জন্য ইসরায়েলের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন ইরান সংকট 'কোনও চুক্তি নেই, কোনও যুদ্ধও নেই' এমন পরিস্থিতির মধ্যে উপস্থিত।
ট্রাম্প গাজায় তার শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে অগ্রগতি আনা, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি নিশ্চিত করা এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি করার জন্য মধ্যস্থতা করতে চান।
ট্রাম্প এবং তার দল ইসরায়েলের ২০১৯ সালের রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি নিয়ে সতর্ক রয়েছেন, সেই সময় তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং পশ্চিম এশিয়ায় কূটনীতির একটি বছর নষ্ট হয়েছিল।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, হোয়াইট হাউজ সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইবে না অথবা ইসরায়েলের অভ্যন্তরীন রাজনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কর্মসূচি বিলম্বিত হোক তা চাইবে না।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন