প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক মন্তব্য করেছেন যে, দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব করতে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় সরকার আগামী ২০ বছরে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যে ৮০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করছে, সেখানে বেসরকারি খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের চাহিদা ও পরামর্শ অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে চট্টগ্রাম চেম্বার ও এডিবির যৌথ আয়োজনে ‘স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন মিটিং অন দ্য ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (আইজিএনডি)’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
চেম্বার সভাপতি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি ভূ-কৌশলগত ঝুঁকি বিবেচনায় উপকূলীয় বেল্টের পাশ দিয়ে চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একাধিক বিকল্প সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থার অংশ হিসেবে রেল ও নৌপথকেও গতিশীল করতে হবে।
তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের বে-টার্মিনাল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সোনাদিয়া-মহেশখালী-চট্টগ্রাম বন্দর-মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অর্থনৈতিক করিডরে রূপান্তরের মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
এছাড়া, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে কার্গো হাবে পরিণত করা, ঢাকা বিমানবন্দরের তুলনায় এর ট্যারিফ কমিয়ে কার্যক্রম আরো গতিশীল করা এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্পে দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানির যৌথ অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার প্রস্তাবও তিনি দেন।
শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মোহাম্মদ আমিরুল হক।
এডিবির প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট তাহসিন এইচ. চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ উন্নয়ন বেসরকারি খাতের মাধ্যমে হচ্ছে। সরকার বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারকে নিয়ে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তুলতে চায়। এই উদ্যোগটি বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আইজিএনডি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে বেসরকারি খাতের চাহিদা ও মতামত নেওয়া হচ্ছে।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, শিল্পায়নের জন্য পর্যাপ্ত ইউটিলিটি সুবিধা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী উপযুক্ত শিল্প স্থাপনের বিকল্প নেই।
দেশীয় বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাদের মতামত গ্রহণের পাশাপাশি মাল্টিমোডাল যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সরকারি নীতি ও পলিসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।
তারা কক্সবাজার অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন এবং পেপারলেস ও ফেসলেস কাস্টমস-পোর্টসহ সরকারি সেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন।
সভায় চেম্বারের সাবেক সহসভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, চেম্বার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. রফিক চৌধুরীসহ ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন