প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীন তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থা এবং পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বেইজিং মন্তব্য করেছে যে, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা অবশ্যই তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।
ভারতের উদ্বেগের প্রসঙ্গে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, তিস্তা অববাহিকা ভারতীয় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার অত্যন্ত কাছে অবস্থিত, এবং এই বিষয়টি ঢাকা-বেইজিং যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের মূল কারণ।
চীনের মতে, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
গুও জিয়াকুন আরও বলেন, তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পটি একটি জীবনযাত্রা-কেন্দ্রিক প্রকল্প, যেটিকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়কে আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রসারিত করতে চীন প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পটির ওপর একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ পরিচালনা করবেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এমন অবস্থায় ছিল না। চীন জানিয়েছে যে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সকল ধরনের সহায়তা দেবে, কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে এর যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে।’
বাংলাদেশ ও চীন সম্প্রতি তিস্তাসহ দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তাই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যেকোনো অগ্রগতি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে এনডিটিভি জানাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেন’স নেক) নিকটবর্তী। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, ওই এলাকার চীনের উপস্থিতি বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন