প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাতের একটি অবিশ্বাস্য চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের ‘চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এ কর্মরত ২৪ জন শিক্ষক একত্রে মাত্র ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেছেন। শিক্ষকের সংখ্যা শিক্ষার্থীর অর্ধেকেরও কম হওয়ার কারণে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাস করেছেন মাত্র চারজন। ফলে, প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আগের বছরও এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেছিলেন মাত্র একজন শিক্ষার্থী।
গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এই তথ্যটি সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০০৭ সালের ১৫ আগস্ট দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চারবাড়ীয়া এলাকায় ‘দি ফাদার অব দি ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল গভঃ স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ প্রতিষ্ঠা হয়। পরবর্তীতে ২০২১ সালের ২৯ জুন এটি সরকারি করা হয়। বর্তমানে কলেজ শাখায় ২৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, চলতি বছর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা এনামুল হক, রাসেল মিয়া ও মাহমুদুল হকসহ অনেকের অভিযোগ, একসময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই পরিচালিত হতো। দলীয় মিছিল-মিটিংয়ে অংশ না নিলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ধরে এনে এই প্রতিষ্ঠানে মারধরসহ নানামুখী নির্যাতন চালানো হতো। তাদের দাবি, এটি মূলত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না, বরং একটি রাজনৈতিক ‘টর্চার সেল’।
তৎকালীন সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরীকে কলেজটির অফিস সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গোয়ালঘরসদৃশ এমন একটি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতার তোয়াক্কা না করে নামমাত্র প্রক্রিয়ায় হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষক বাদে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদেরই এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাও এই কলেজে শিক্ষকতা করছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুবলীগ নেতা প্রভাষক কামরুল ইসলাম, আশরাফুল আলম, মেহেদি হাসান রাসেল এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতির ভাই অফিস সহকারী পারভেজসহ অনেকেই পলাতক রয়েছেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, পলাতক থাকা সত্ত্বেও ওই শিক্ষকদের হাজিরা খাতায় অন্য শিক্ষকেরা প্রতিদিন প্রক্সি (বিকল্প) স্বাক্ষর দিয়ে আসছেন। এর ফলে, কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও তারা নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন। সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে কলেজটিতে পড়াশোনার পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে আসে না, আবার কিছু প্রভাষকের নিজ পদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থীই নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে চারবাড়ীয়া সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক (স্কুল ও কলেজ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইসরাত জাহান ফরিদা ইয়াসমিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে, এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন