প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু মন্তব্য করেছেন যে, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় গার্মেন্টস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে।
শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে মহাসড়কে তীব্র যানজট পরিদর্শন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া সাভার শিল্প পুলিশ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ করে মহাসড়কে চলে আসতে বাধ্য করছে। শান্তিপ্রিয় শ্রমিকরাও বাধ্য হয়ে কারখানা ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে।
মজুরি বাড়ানোর মূল দাবিকে কেন্দ্র করে সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাক শিল্প এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শ্রমিক বিক্ষোভে শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসেছে। দুই শতাধিক কারখানায় আজও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন কাভার্ডভ্যানে আগুন দেয়া হয়েছে দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা।
সোমবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে। এতে অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।
দুপুরের পর হেমায়েতপুরের পদ্মার মোড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থান নেন। তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ। তারা শিল্পাঞ্চলে ভাঙচুর ও অস্থিরতার প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসড়কে সমাবেশ করেন। এ সময় ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতরা পালিয়ে যায়।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের দাবি পূরণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলেও শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আজকে সাভারের পরিবেশ অনেকটাই শান্ত রয়েছে। কিছুটা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ তৎপর থাকার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমসহ পুলিশের কর্মকর্তারা এখানে উপস্থিত থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছেন।
বিকালে সাভারের বিভিন্ন কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ায় শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলাকারীরা সাধারণ শ্রমিক নয়। তাই নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনের সুযোগে কিছু দুষ্কৃতকারী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমরা তাদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং তথ্য সংগ্রহ করছি। আন্দোলনের নামে বহিরাগত বিশৃঙ্খলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় শ্রমিকদেরও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান ডিআইজি।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম যুগান্তরকে জানিয়েছেন, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় ১০ জনকে আশুলিয়া-বাইপাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তারা শ্রমিক না বহিরাগত তা এখনো যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন