প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা বেশি হয়েছে।
অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত হলো, তিনটি কারণের জন্য সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি নির্ভর করেছে। এই তিনটি কারণ হল রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণপ্রবাহে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা বা ২৭ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে গেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ সাত হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তফা কে মুজেরী মন্তব্য করে বলেন, বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরে সরকার ব্যয় নির্ধারণ করে। তবে বাস্তবে রাজস্ব আদায় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হয়েছে, যার ফলে সরকারকে ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ছিল চার লাখ ৫২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৭৯ হাজার ৮১১ কোটি টাকায়। অর্থাৎ ১১ মাস ২৩ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই বেড়ে ওঠা ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণের স্থিতি ছিল ৯৮ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত তা বেড়ে হয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৭১ কোটি টাকা। ফলে এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৯ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছিল।
সকল তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, বিদায়ী অর্থবছরের শুরু থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত ব্যাংক খাত থেকে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৮৭ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের এ স্থিতি ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও পরে তা সংশোধিত বাজেটে বাড়িয়ে এক লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা করা হয়। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিবছর বাজেটে এক বড় অঙ্কের ঘাটতি রাখা হয় এবং এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকেই ঋণ নেয়। তবে বৈদেশিক উৎস থেকে প্রত্যাশিত অর্থায়ন না এলে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর, যেমন ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন