প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
১৮ মাস ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা দ্রুত সচল করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানাটির নাম পরিবর্তন করে ‘আশুগঞ্জ জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ করার পাশাপাশি আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন চালুর দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (এএফসিসিএল) প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। গত বছরের ১ মার্চ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় কারখানাটিতে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় ১৮ মাস ধরে কারখানাটি উৎপাদনহীন অবস্থায় রয়েছে।
সকাল ৯টার দিকে শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্যরা টোলপ্লাজা এলাকায় জড়ো হন। তাদের হাতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র ছিল। পরে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, শ্রমিক দল, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আশুগঞ্জ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যসহ উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন।
শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সার কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু কাউসার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাদী মো. তানভীর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গুণগত মান ভালো হওয়ায় আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়ার চাহিদা বেশি। কারখানাটি চালু রাখা গেলে সরকার লাভবান হবে। তাঁদের অভিযোগ, ২০১০ সালের পর থেকে একটি মহল বিদেশ থেকে সার আমদানির মাধ্যমে কমিশন-বাণিজ্যের স্বার্থে বছরের অধিকাংশ সময় কারখানাটিতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখে। এতে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে অলাভজনক হয়ে পড়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় সার কারখানার যন্ত্রপাতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে ইউরিয়া উৎপাদন চালুর দাবি জানান তারা।
তারা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানাকে গ্যাস সাশ্রয়ী করতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে সচল করতে হবে। প্রয়োজনে পুরোনো কারখানার পরিবর্তে নতুন একটি সার কারখানা স্থাপনেরও দাবি জানান তারা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন