প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের একাধিক উপজেলা প্লাবিত হয়ে অন্তত সাড়ে চার লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি ইতিমধ্যে বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সাতকানিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রত্যেকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভা ও রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করানোর কারণে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে সাতকানিয়ায় অন্তত তিন লাখ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উপজেলায় ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাটের কারণে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাঙ্গু নদী, ডলু ও হাঙ্গর খালের মাধ্যমে পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় বন্যা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে। সাঙ্গু নদীর বেশি পানি থাকার কারণে ভাটি এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল পর্যন্ত সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। জেলা প্রশাসক জানান, সাতকানিয়ায় উদ্ধার কাজের গতি বৃদ্ধির জন্য ১০টি স্পিডবোট চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আপাতত নৌকার মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আঁকন জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। সব মিলিয়ে এই উপজেলায় অন্তত ৩৮ হাজার লোক পানিবন্দি রয়েছেন।
চন্দনাইশ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া উপজেলার সবকিছু ইউনিয়ন কমবেশি দুর্গত হয়েছে। এতে প্রায় ১৪ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
লোহাগাড়ার ইউএনও বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে সাঙ্গু ও ডলু নদী সংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি বেড়েছে। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রামে শনিবার (৫ জুলাই) থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে বৃষ্টি চলছিল, তবে আজ বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বানভাসি জনগণ যাতে খাদ্য সংকটে না পড়ে, সেই কারণে এসব বরাদ্দ ইউএনওদের চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন