প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আল্পস অঞ্চলের দেশ স্লোভেনিয়া, যা জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেজ ইয়ানশার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস শুরু করেছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা তৈরি হলেও স্লোভেনিয়া এই প্রবণতার বিপরীত পথে অগ্রসর হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, ইসরাইল বুধবার লুবলিয়ানায় দেশটির প্রথম দূতাবাস উদ্বোধন করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে পাঠাচ্ছে।
এটি আগের মধ্য-বামপন্থী সরকারের নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ওই সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিল এবং তারা ওই অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই পদক্ষেপটি এমন একদিন পর নেওয়া হলো, যখন অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দা বাড়তে থাকায় ইউরোপের সরকারগুলোর নেওয়া এটি সর্বশেষ পদক্ষেপ।
ইয়ানশা চলতি বছরের শুরুতে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রায়ই তার বিরোধ দেখা যায়। পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে ইইউর অবস্থানের বিরোধিতা করায় তিনি ইসরায়েলের প্রশংসা অর্জন করেছেন।
ইয়ানশার নেতৃত্বে স্লোভেনিয়া বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপর নিজেদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে এবং ইসরায়েলের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিয়েছে। নেতানিয়াহু ও তার দুই মন্ত্রীর ওপর দেওয়া প্রবেশ নিষেধাজ্ঞাও বাতিল করা হয়েছে।
ইসরায়েলের শীর্ষ কূটনীতিক গিদিওন সার বুধবার স্লোভেনিয়ায় তার প্রথম সরকারি সফরে দূতাবাসটি উদ্বোধন করবেন। তার মন্ত্রণালয় ইয়ানশাকে ‘ইসরায়েলের বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইয়ানশা বলেছেন, তার সরকার উদারপন্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলবের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ‘শুধু স্লোভেনিয়ার পররাষ্ট্রনীতি স্বাভাবিক করছে।’
দৈনিক দেনেভনিকের কলামিস্ট দারিয়ান কোশির মন্তব্য অনুযায়ী, ইইউতে ইয়ানশা ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ট্রোজান হর্স’ হিসেবে কাজ করছেন। এপ্রিলের নির্বাচনে হেরে যাওয়া হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের জায়গা তিনি নিয়েছেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক এএফপিকে বলেছেন, স্লোভেনিয়া ‘ইসরায়েলি নীতির একটি হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।’
লুবলিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক তুর্ক মন্তব্য করেছেন, ‘এটি অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন