প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিক্ষার ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে বাংলাদেশ ও রাশিয়া তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মঙ্গলবার মস্কোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকের সময় ড. খলিলুর রহমান ও লাভরভ সমসাময়িক আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিষয়াদিতে মতবিনিময় করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ড. খলিলুর রহমানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফর। সের্গেই লাভরভের আমন্ত্রণে তিনি তিন দিনের সরকারি সফরে রাশিয়া গমন করেছেন।
লাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘকে আরও কার্যকর এবং বৈশ্বিক বিষয়াবলীতে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তার প্রচেষ্টায় রাশিয়ার পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
লাভরভ আরও উল্লেখ করেন, "আমরা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের বাস্তবমুখী ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছি।" তিনি জনাতে থাকেন, এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতিতে রাশিয়া ড. খলিলুর রহমানের পাশে থাকবে।
‘উভয় দেশই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এবং সহযোগিতার সুসম্পর্ক বজায় রেখে আসছে’ তুলে ধরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, সামরিক এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে।
লাভরভ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের দু’দেশের মধ্যে স্থিতিশীলভাবে রাজনৈতিক সংলাপ গড়ে উঠছে। মস্কো এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে চায়।
ড. খলিলুর রহমান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। একইসঙ্গে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মস্কোর সহযোগিতার কথা স্মরণ করে ড. খলিলুর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান। বিশেষ করে স্বাধীনতার পর চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্ত করতে বিশেষভাবে সোভিয়েত নৌবাহিনীর অবদানের কথা তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, এবং প্রতিরক্ষা খাতে আমাদের সম্পর্কের সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং আমরা এই ক্ষেত্রগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে দুই দেশের বর্ধমান অংশীদারিত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন এবং প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠকে জাতিসংঘসহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি, শিক্ষা এবং কারিগরি খাতে এই সহযোগিতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন