প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাবর্জ্য পরিশোধনের জন্য নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের রুল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান এবং বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে।
আইনজীবী সৈয়দ মহিদুল কবির রিটের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেবেন। তিনি মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জানান, আদালত গত ২ নভেম্বর রুল শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে। রিটটি কার্যতালিকায় (কজ লিস্ট) উঠলেই এর ওপর শুনানি শুরু হবে।
২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে ‘হ্যাজারডাস ওয়েস্ট হিপড ইন ওপেন বিনস’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে উন্মুক্ত স্থানে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলে রাখার কারণে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়ার বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনটির পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ওই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ও সাংবাদিক আহমেদ আল আমীন। নোটিশের কোনো সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে ওই বছরের ১৯ মার্চ জনস্বার্থে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করা হয়।
রিটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিবকে বিবাদী করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশসহ রুল জারি করেছিল।
রুলে হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ সব ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে বর্জ্য অপসারণ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য পৃথকভাবে অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসাবর্জ্য অপসারণ, পুনর্ব্যবহার ও পরিবহনের ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্য ও প্রকৃতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চায় আদালত।
রিট আবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সামনে উন্মুক্ত স্থানে স্তূপ করে চিকিৎসাবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া অধিকাংশ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরের যথাযথ ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা সারা দেশের চিকিৎসাবর্জ্য ব্যবস্থাপনার চরম দুরবস্থার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
রিটে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রচলিত পরিবেশ আইন এবং চিকিৎসাবর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। হাসপাতালের বিপজ্জনক বর্জ্য সাধারণ গৃহস্থালির বর্জ্যের সঙ্গে মিশে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। বড় বড় হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর অনেকেরই নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার বা ইটিপি না থাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রুল শুনানির নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হলো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন