প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ব্রিটেনের ইতিহাসে দাস বাণিজ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। তাঁর এই অবস্থান ব্রিটিশ সরকারের দীর্ঘকালীন নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে তিনি আফ্রিকান দাসদের বংশধরদের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে সমর্থন জানাননি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধে বার্নহাম উল্লেখ করেন, অতীতের অন্যায়ের জন্য বর্তমান ব্রিটিশ জনগণকে দায়ী করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “অতীতের অন্যায় যত ভয়াবহই হোক না কেন, ভিন্ন যুগে ও ভিন্ন আইনের অধীনে সংঘটিত এমন ঘটনার জন্য ব্রিটিশ জনগণকে দায়ী করা উচিত নয়, যাতে তাঁদের ব্যক্তিগত কোনো ভূমিকা ছিল না।”
বার্নহাম পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সমালোচনা করেন, যারা দাস বাণিজ্যে ব্রিটেনের ভূমিকার ঐতিহাসিক প্রভাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেননি। তিনি বলেন, তাঁর পূর্বসূরিরা এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এই প্রেক্ষাপটে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে বিশ্বের দরিদ্রতম সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠনে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিতে অনুরোধ করেছেন তিনি।
বার্নহাম লেখেন, “ব্রিটিশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবিগুলো শোনা এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে। আমি এ বিষয়ে আগ্রহী।”
প্রধানমন্ত্রীর এই অবস্থান আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ নেতাদের বৈঠকে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে। তবে কবে রাজা বা প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের পদক্ষেপ নেবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ব্রিটেনের সমালোচকদের একটি অংশ শুধুমাত্র ক্ষমা চাওয়ায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের দাবি, দাস বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বংশধরদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ১৭০০ ও ১৮০০ শতকে ব্রিটিশ জাহাজে করে প্রায় ৩০ লাখ আফ্রিকানকে আটলান্টিক পেরিয়ে উপনিবেশগুলোর কৃষি খামারে দাস হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিদ্রোহের চেষ্টা নির্মমভাবে দমন করা হতো।
গত সপ্তাহে ক্যারিবীয় রাষ্ট্রগুলোর সংগঠন ক্যারিকমের ক্ষতিপূরণ কমিশনের চেয়ারম্যান হিলারি বেকলস রাজপরিবারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, দাসপ্রথা থেকে রাজপরিবার যে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছে, তার প্রভাব এখনো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদে রয়েছে। তাই রাজা চার্লসের উচিত তাঁর পূর্বপুরুষদের শাসনামলের অন্যায়ের বিষয়ে আরও পদক্ষেপ নেওয়া।
তবে বাকিংহাম প্যালেসের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হচ্ছে, দাস বাণিজ্যে ব্রিটেনের ভূমিকার জন্য ক্ষমা চাওয়া বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের, রাজপরিবারের নয়। শুক্রবারের আগে পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার আনুষ্ঠানিক ক্ষমা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ—দুই দাবিই প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
এর আগে রাজা চার্লস দাসপ্রথাকে “ভয়াবহ নৃশংসতা” হিসেবে বর্ণনা করে বলেছিলেন, এটি “আমাদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী কলঙ্ক।” তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের দাস বাণিজ্যে ভূমিকার জন্য তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাননি।
বর্তমানে সাত দিনের ক্যারিবীয় সফরে রয়েছেন রাজা চার্লস। আগামী মঙ্গলবার অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ নেতাদের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। গত সপ্তাহে তিনি বলেন, অতীতে এসব দ্বীপে এবং এর বাইরেও মানুষের যে দুর্ভোগ হয়েছে, তা স্বীকার করা উচিত। একই সঙ্গে বর্তমানের সাফল্য উদ্যাপন ও ভবিষ্যতের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির কথাও বলেন তিনি।
শুক্রবার রাতে রাজা অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর নিবন্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বাকিংহাম প্যালেসের একজন মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি। বার্নহামও মঙ্গলবারের ওই বৈঠকে অংশ নেবেন। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন