প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু বলেই উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি মন্তব্য করেন, রোহিঙ্গা সংকট শুধুমাত্র মানবিক সমস্যা নয়, বরং এটি মূলত একটি গভীর রাজনৈতিক ইস্যু। এই কারণে, এর সমাধানের জন্য জাতীয় ঐকমত্য, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সর্বস্তরের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ‘হোল অব গভর্নমেন্ট’ অ্যাপ্রোচ গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, রাখাইনের বর্তমান রাজনৈতিক ও ভূখণ্ডগত পরিস্থিতির কারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয় নিয়ন্ত্রক শক্তি আরাকান আর্মির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, চীন, ভারত এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার জন্য জোর তৎপরতা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় রাজনৈতিক ঐকমত্য গঠন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইস্যুটিকে সক্রিয় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, সমাজকল্যাণসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহের সমন্বয়ে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা অবস্থান করায় কক্সবাজারসহ স্থানীয় জনগণের মারাত্মক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এছাড়া, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও মানবপাচার, অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব এবং বাংলাদেশি জেলেদের আটকের মতো ঘটনা জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক নতুন শিশুর জন্ম এবং পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সংকট সমাধানে জাতিসংঘে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের স্বদেশে সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ এবং অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও নতুন নতুন শরণার্থী সংকটের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সমস্যাকে সচল ও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখার জন্য মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন