প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী শিবির এবারে দলটির চেয়ারম্যান পদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই সরিয়ে দিয়েছে। নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে হাওড়া মধ্য বিধানসভার বিধায়ক অরূপ রায়কে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বরখাস্ত করেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘তৃণমূল’ দলের পক্ষ থেকে।
সোমবার (২২ জুন) বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা নিউ টাউনের একটি হোটেলে বৈঠকে মিলিত হন। ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ৬০ জন বিধায়ক। বাংলা শহরের প্রায় ৭০ জন সাবেক কাউন্সিলরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ‘তৃণমূলের’ নতুন ৩০ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করা হয়।
ওই বৈঠকে তৃণমূলের ২০ নম্বর ধারার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত ধারার রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতি তিন বছরে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক ডাকার কথা। কিন্তু ২০২২ সালের পর তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক আর অনুষ্ঠিত হয়নি। সেই কারণে একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে আগের জাতীয় কর্মসমিতি ভাঙণ করা হয়েছে। নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করেছে ঋতব্রতদের ‘তৃণমূল’। নতুন কর্মসমিতির চেয়ারম্যান হলেন মধ্য হাওড়ার বিধায়ক। সেইসাথে সহ-সভাপতি, কোষাধ্যাক্ষও নির্বাচিত করা হয়েছে।
নতুন কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এছাড়া, তৃণমূলের আরও দুই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঋতব্রত ছাড়াও বেছে নেয়া হয়েছে জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিনকে। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন আখরুজ্জামান।
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূলের অন্দরেই বিদ্রোহের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। সেই লক্ষণ ধীরে ধীরে বৃহৎ আকারে রূপান্তরিত হয়েছে। বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে সই-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক কে হবেন, এ নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের জটিলতায় পড়তে হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে যে, অভিষেক বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা প্রস্তাবিত চিঠি পাঠান এবং তাতে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল করা হয়।
এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক ঋতব্রত এবং এন্টালির সন্দীপন, যা নিয়ে অনেক দিনই টালবাহানা চলে। দলের মধ্যে ভাঙন ক্রমশ স্পষ্ট হতে শুরু করে। তৃণমূলের নেতৃত্ব এক্ষণে মমতার হাত থেকে আলগা হতে শুরু করে। প্রথম পর্যায়ে একসাথে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করা হয়।
এর মাধ্যমে তৃণমূলে ভাঙনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে একের পর এক ফিরহাদদের মতো মমতা-সহানুভূতিশীলরা বিদ্রোহ শিবিরে যোগদান করতে শুরু করেন। শুধু তৃণমূলের পরিষদীয় দলে নয়, সংসদীয় দলেও ভাঙনের ঘটনা ঘটে। একসাথে লোকসভার ২০ জন সাংসদ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যান। তারা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টিস অব ইন্ডিয়া নামে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হন। সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেবেরা রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন।
শুধু উঁচুতলায় নয়, তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠনেও ভাঙন ধরতে শুরু করে। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল ত্যাগের হিড়িক পড়ে যায়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আসল তৃণমূল কোনটি? মমতার হাতে যেই তৃণমূল আছে, না কি ঋতব্রতের শিবির? সোমবারের বৈঠকে ঋতব্রতেরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারাই আসল ‘আসল তৃণমূল’। তারা সেইসাথে একটি নতুন কমিটি গঠন করেছেন। ঐ বৈঠকে দেখা যায় মমতার তৈরি করে দেয়া তৃণমূলের নতুন কমিটির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পুত্র সৌরভ বসুকেও।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন