প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। এ খবরটি আল জাজিরা জানিয়েছে, যে তথ্য লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।
ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ইসরাইলি যুদ্ধবিমান চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের জাবাল আমেল হসপিটালের পাশের এলাকায় আঘাত হানে। এই হামলার ফলে হাসপাতাল ভবনটিতে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। একই সঙ্গে একটি ব্যাংক ভবনও ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
আল আরাবিয়া নিউজ চ্যানেলের তথ্যমতে, সোমবার (১ জুন) জাবাল আমেল হাসপাতালের পাশে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় অন্তত ৫ জন মানুষের মৃত্যু ঘটে।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের দোয়াইর শহরের একটি ভবনে রাতের বেলায় আরেকটি বিমান হামলায় একজন ব্যক্তি নিহত হন এবং একজন আহত হন। অন্যদিকে, আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকালে একটি ড্রোন হামলায় হাবুশ সড়কে একটি মোটরসাইকেলে আঘাত লেগে একজন আহত হন।
নাকৌরা এলাকা এবং বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ ও হামলা চালানো হয়েছে। আয়তা আশ-শাব শহরে একটি হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাইর শহরে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হাসপাতালের নিকটস্থ একটি ভবনে আঘাত লাগার ফলে রাস্তার একটি অংশ আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, হাসপাতালের খুব কাছাকাছি বারবার হামলা করা হচ্ছে যেন স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করা যায় এবং সরাসরি হাসপাতাল লক্ষ্য না করলেও সেখানে ক্ষতি করা যেতে পারে।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননের দেব্বিন এলাকায় লেবাননের সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো কিছু সপ্তাহ পরে প্রবেশ করেছে, যেখানে পূর্বে ইসরাইলি বাহিনী অবস্থান করেছিল এবং পরে তারা সরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বুধবার (৩ জুন) ওয়াশিংটনে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যুদ্ধবিরতি শর্তসাপেক্ষে বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছে ইসরাইল ও লেবানন। চুক্তির ওপর নির্ভর করছে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর হওয়া ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হওয়া।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির কার্যকর হতে হলে হিজবুল্লাহকে হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে এবং দক্ষিণ লেবনন থেকে গোষ্ঠীটির সদস্যদের সরাতে হবে। এছাড়া দুই দেশ কিছু ‘পাইলট জোন’ স্থাপনে একমত হয়েছে, যা লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেখানে কোন অরাষ্ট্রীয় পক্ষ বা সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকতে পারবে না।
লেবাননের সরকার জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা তাদের জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে গণ্য। তবে হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে। গোষ্ঠীটির নেতা নাইম কাসেম এই আলোচনাকে ‘অপমানজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হিজবুল্লাহকে বাদ দিয়ে করা ইসরাইল ও লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন