প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আসন্ন আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এর প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন তরুণ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের ন্যায্য হিস্যা আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ শীর্ষক সম্মেলনে তারা এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ) বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।
সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ডিএসসিসি পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও ক্লিন এনার্জি উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে নিশ্চিত করতে দেশের অবস্থানকে আরো জোরালো করতে হবে। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থার বিকল্প নেই। তিনি নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণের মাধ্যমে পরিবেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব বলে উল্লেখ করেন।
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্য সম্পদের ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফ্লাই অ্যাশ ও গরম পানির কারণে নদীদূষণ, অক্সিজেনের ঘাটতি ও মাছের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র ফেজ-আউট এবং বিদ্যমান স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা জানান।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, দেশে বিদ্যমান সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিলের পাশাপাশি কপ জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশনের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
সভাপতির বক্তব্যে এইচ এম সুমন বলেন, তরুণদের জলবায়ু নীতি নির্ধারণে শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখা যাবে না; তাদের মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী হিসেবেও সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তরের সময়ের দাবি তুলে ধরেন।
দিনব্যাপী এ সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, পরিবেশবিদ ও গবেষকদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও উন্নয়নকর্মীসহ অনেকেই অংশগ্রহণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন