প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নবম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এসংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের সচিব কমিটি সুপারিশমালা প্রস্তুতের কাজ অব্যাহত রেখেছে, তবে বাস্তবায়নের কৌশল, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে গেজেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
এর ফলস্বরূপ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছেন। আগস্টে গেজেট প্রকাশ হবে নাকি অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, সেই সম্পর্কে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, শুরুতে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপে নতুন মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর করার কথা, দ্বিতীয় ধাপে বাকি অংশ এবং শেষ ধাপে নতুন ভাতা কার্যকর করা হবে।
কিন্তু বাস্তব হিসেব-নিকাশে দেখা গেছে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত বেতন বৃদ্ধি হবে না। কিছু ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করা হলেও সেটিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমান সময়ে আবার নতুন করে তিন ধাপের কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী ধাপগুলোর সময়ে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা যুক্ত করা হতে পারে।
গত ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে পে স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাব্য ধাপ, আর্থিক প্রভাব, সফটওয়্যার কাঠামো, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সরকারের সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে, কিন্তু কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সম্প্রতি ঢাকা সফরের সময় দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও আইএমএফ আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দও রাখা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ নতুন পে স্কেলের বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।
তবে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ থাকলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কমছে না। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিদ্যমান বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তারা দ্রুত নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে সচিব কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর এবং বাস্তবসম্মত একটি পে স্কেল বাস্তবায়নই তাদের লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন হলে আরো বৈঠক করে পূর্ণাঙ্গ ও ত্রুটিমুক্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে তা ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হবে না।
উল্লেখ্য, জাতীয় বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার সেই প্রস্তাবে কিছু পরিবর্তন এনে নতুন কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন