প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান ডেঙ্গুমুক্ত নগর ও অবৈধ দখলমুক্ত ফুটপাত গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সফল হওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য নগরবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।"
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ডিএনসিসির আয়োজনে ডেঙ্গু মশার লার্ভা ধ্বংস ও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রশাসক আরও জানান, গত তিন মাস ধরে ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা উত্তর গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ডিএনসিসি। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা খুঁজে অভিযান চালানো হচ্ছে। লার্ভা পাওয়া গেলে জরিমানাও করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকাকে ডেঙ্গুমুক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।" এ কাজে নগরবাসীকে সচেতন ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীর উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে বলেন, স্থানীয় প্রতিনিধি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চিঠিটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়তে নগরবাসী সহযোগিতা করবেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক মেট্রো রেলের পিলারে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার-লিফলেট দেখে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নগরের সৌন্দর্য রক্ষায় যা যা করণীয়, সিটি করপোরেশন তা করবে।
তিনি আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের সব পিলার থেকে অবৈধ পোস্টার ও লিফলেট অপসারণের নির্দেশ দেন।
‘এখন আর নোটিশ নয়’
ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "ফুটপাত জনগণের অধিকার। সেখানে নিরাপদে জনগণের চলাচল নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব।"
তিনি জানান, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা ব্যক্তিদের আগে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন আর নোটিশ দেওয়া হবে না। যেখানেই ফুটপাত দখল করা হবে, সেখানেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করে জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মিরপুর ১০-এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
বিশেষ পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের উদ্বোধন শেষে মেট্রোরেলের নিচে ব্যবসায়ীদের ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য বিশেষ বিন স্থাপন করা হয়। পরে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের করা হয়।
র্যালি শেষে মিরপুর-১০ ফলপট্টি এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পুনরায় সেখানে অবৈধ স্থাপনা বসানো হলে আবারও উচ্ছেদ করা হবে বলে জানান প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ুন কবিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন