প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গ্রামের নিরীহ ও সাধারণ নারীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার নামে আইরিশ (চোখের ছাপ), আঙুলের ছাপ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মতো সংবেদনশীল বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই তথ্যের অপব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে এসব নারীরা।
সম্প্রতি, দেশের বিভিন্ন জেলায় দায়ের হওয়া সাইবার ও প্রতারণা মামলায় ঝিনাইদহের নারীদের নাম ও পরিচয় অনুসন্ধানের চিঠি পৌঁছানোর পর পুরো এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে কিছুদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার দোহাই দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। সাধারণ নারীরা এটিকে স্বাভাবিক সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ভেবে নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিয়ে দেন। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই সামনে আসে আসল প্রতারণার চিত্র।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন থানার একটি সাইবার মামলায় ঝিনাইদহ সদরের রামচন্দ্রপুর এলাকার জাহানারা বেগমের নাম উঠে আসে এবং সাতক্ষীরার তালা থানার একটি মামলায় একইভাবে হলিধানী এলাকার নাছিমা খাতুনের পরিচয় ও পুলিশ রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য পিবিআই থেকে ঝিনাইদহ সদর থানায় অনুসন্ধান স্লিপ পাঠানো হয়। এর পরেই মূলত জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
হলিধানী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরের জামিলা খাতুন, সোনিয়া খাতুন, রহিমা খাতুন ও আব্দুল হকসহ একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, কেবল এই দু-এক জন নন, এলাকাটির প্রায় ৩০০ নারীর কাছ থেকে একইভাবে চোখ ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী রহিমা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা কখনো বিকাশ বা নগদ দিয়ে কোনো অর্থ আত্মসাৎ করেননি। স্বাস্থ্যসেবার নামে তাদের তথ্য নিয়ে এখন কীভাবে অন্য জেলার মামলায় তাদের নাম জড়িয়ে যাচ্ছে, তা ভেবে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করে স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম বাবু জানান, একটি সুসংগঠিত চক্র এই ডিজিটাল তথ্য হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক জালিয়াতি চালাচ্ছে এবং নিরীহ মানুষকে আইনি জটিলতায় ফেলছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বুধবার দুপুরে জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য জানা যাবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি জানান, বাড়িতে গিয়ে অপরিচিত কেউ যদি জাতীয় পরিচয়পত্র, চোখের বা আঙুলের ছাপসহ ব্যক্তিগত তথ্য চায়, তবে তা কোনো অবস্থাতেই যেন দেওয়া না হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন