প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিশেষ ‘৭ দিনের পরিকল্পনা’ বা রোডম্যাপ প্রস্তাব করেছে ইরান। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে এই পরিকল্পনাটি ওয়াশিংটনের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্দিষ্ট শর্তসমূহ মেনে চলে, তাহলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে স্থগিত থাকা শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাব ও শর্তাবলী:
তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ রোডম্যাপের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এটি গত ১৭ জুনের স্মারকলিপির (MoU) ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ওই সমঝোতায় সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরান তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরান কোন অবস্থাতেই মার্কিনদের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ট্রাম্পের ওপর চাপ:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সংকটের সপ্তম মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে (Midterm Elections) সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে। কিন্তু ওয়াশিংটন পরমাণু চুক্তি ও হরমুজ সংকটকে পৃথকভাবে না দেখে একটি সামগ্রিক প্যাকেজ হিসেবে সমাধান করতে আগ্রহী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ প্রতিনিধিরা আলোচনাকে ইতিবাচক বললেও, তারা কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির কথা অস্বীকার করেছেন।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব:
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে। যদি এই ৭ দিনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্বাভাবিক হতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতি একটি বড় ধরনের স্বস্তি পেতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন