প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
থাইল্যান্ডের বুং সামরান ফিশিং পার্কে মাছ ধরার সময় ৭৬ কেজি ওজনের মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ ধরেছেন বাংলাদেশের দুই শখের মাছশিকারি। তবে বিশাল এই মাছটি বিক্রি করে কোনো টাকা পাননি তারা। কারণ, পার্কটির নিয়ম অনুযায়ী মাছ ধরার পর ছবি তোলা হয় এবং তারপর আবার পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।
ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তাদের দীর্ঘদিন মাছ ধরার সুযোগ হয়নি। কিন্তু বন্ধু ওমর হায়দারের আগ্রহের কারণে এবার নতুন অভিজ্ঞতার জন্য দেশের বাইরে মাছ ধরতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন দুই বন্ধু।
থাইল্যান্ডে মাছ ধরার অনেক জায়গা থাকলেও তারা শেষ পর্যন্ত বেছে নেন প্রায় ৪২ বছরের পুরোনো বুং সামরান ফিশিং পার্ক। গত ৫ আগস্ট ব্যাংককে পৌঁছে পরদিন গাড়িতে প্রায় দেড় ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা এই পার্কে পৌঁছান।
নিবন্ধনের পরে তাদের দেওয়া হয় একটি বাংলো এবং একজন গাইড। ফিশিং প্যাকেজে ছিল রড, হুইল, মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুবিধা। দুজন মিলে একটি ফিশিং রডের জন্য খরচ করেন ৬ হাজার বাথ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি এক দিনের মাছ ধরার লাইসেন্সের জন্য জনপ্রতি দিতে হয়েছে ২ হাজার বাথ।
প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই হ্রদে ৪০টির বেশি প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর মধ্যে মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশের ওজন ২০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। রয়েছে ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের জায়ান্ট সিয়ামিজ কার্পও।
বাংলোয় ওঠার পর গাইড টোপ তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রায় ৩০ কেজি খাবার, চালের গুঁড়া, ছাতুসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ ব্যবহার করে টোপ তৈরি করা হয়।
ছিপ ফেলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথম মাছের টান পান ওমর হায়দার। প্রায় ২০ মিনিট লড়াই শেষে ধরা পড়ে ৩৬ কেজি ওজনের একটি মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ। পরে প্রায় ৫০ কেজি ওজনের আরও একটি মাছ ধরা পড়ে।
দিনের শেষ দিকে আসে সবচেয়ে বড় চমক। প্রায় ৭৬ কেজি ওজনের একটি বিশাল মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ বড়শিতে ধরা পড়ে। এত বড় মাছ সামলে নিতে তাদেরকে হিমশিম খেতে হয়।
তবে তারা মাছটিকে বিক্রি করে কোনো অর্থ পাননি। বুং সামরান ফিশিং পার্কে রয়েছে ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ নীতি, অর্থাৎ মাছ ধরার পর ওজন করা ও ছবি তোলার পর সেটিকে আবার নিরাপদে পানিতে ছেড়ে দিতে হয়।
পার্ক কর্তৃপক্ষ মাছের নিরাপত্তার বিষয়ে বেশ কঠোর। মাছের শরীরে ক্ষতি হলে বা মাছ মারা গেলে বড় অঙ্কের জরিমানা দিতে হয়। এ কারণে সেখানে বিশেষ ধরনের বার্বলেস বড়শি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাছের মুখ থেকে বড়শি সহজে খুলে ফেলা যায় এবং ক্ষতি কম হয়।
একদিনের মাছ ধরায় তারা প্রায় ২২ থেকে ২৩টি বড় মাছ ধরেন। কিন্তু দিনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে ৭৬ কেজির সেই মেকং জায়ান্ট ক্যাটফিশ।
ফিশিং পার্কটিতে সর্বোচ্চ প্রায় ১২০ কেজি ওজনের মাছ ধরার রেকর্ড রয়েছে। ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরতে পারলে শিকারিদের ছবি স্থান পায় পার্কের ‘হল অব ফেমে’।
এবার সেই স্বপ্ন পূরণ না হলেও তারা আবারও থাইল্যান্ডে গিয়ে ১০০ কেজির বেশি ওজনের মাছ ধরে হল অব ফেমে জায়গা করে নেওয়ার ইচ্ছা করেছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন