প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শেরপুরের শ্রীবরদী সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ প্রায় নয় মাস ধরে শূন্য রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশাসনিক পদ দীর্ঘ সময় ধরে খালি থাকার ফলে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফরহাদ আলী ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) চলে যান। এরপর থেকে অধ্যক্ষের পদটি শূন্য অবস্থায় রয়েছে। বর্তমানে সহযোগী অধ্যাপক কাজী হাসানুজ্জামান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আক্রাম হোসাইন ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বদলি হয়ে শেরপুর সরকারি কলেজে চলে যান। উপাধ্যক্ষের পদটিও এরপর থেকে শূন্য রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত উপাধ্যক্ষের পদটি প্রায় ৯ মাস ৮ দিন এবং অধ্যক্ষের পদটি প্রায় ৯ মাস ধরে খালি রয়েছে।
বর্তমানে শ্রীবরদী সরকারি কলেজে ২৯ জন শিক্ষক এবং ২৪ জন কর্মচারী কর্মরত আছেন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি এবং ডিগ্রি পর্যায় মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীর শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কলেজের শীর্ষ দুটি প্রশাসনিক পদ দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ হয়নি। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাকিব বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকায় কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে আমাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, পরীক্ষা ও বিভিন্ন কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দ্রুত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ প্রয়োজন।" অন্য শিক্ষার্থী সুমি বলেন, "কলেজে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য রয়েছে। এতে কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।"
এক অভিভাবক জানান, "দীর্ঘদিন অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ক্লাসে উপস্থিতি, পরীক্ষা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে পড়ছে বলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন। কোনো ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে দোষারোপ নয়, দ্রুত যোগ্য অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।" তিনি আরও বলেন, "প্রশাসনিক সংকটের কারণে যেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।"
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক কাজী হাসানুজ্জামান বলেন, "কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদ দুটি অনেক দিন ধরে শূন্য আছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দুটি পদের দায়িত্ব যুগপৎ পালন করা কষ্টসাধ্য বটে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং শূন্য পদে পদায়নের অনুরোধ করেছি। সচিব স্যার আশ্বস্ত করেছেন। আমরা দ্রুতই দুটি পদে পদায়ন প্রত্যাশা করছি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন