প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নেমে নিজ হাতে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেছেন নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার মুশফিকুর রহমান। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের সামনে বন বিভাগসংলগ্ন এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় শার্টের হাতা গুটিয়ে হাতে গ্লাভস ও কোদাল নিয়ে ড্রেনের কাদামাটি এবং আবর্জনা পরিষ্কার করেন জেলা প্রশাসক। তাঁর সঙ্গে অভিযানে অংশ নেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক ও নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক এ কে এম আব্দুল্লাহ বিন রশিদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওয়াহিদুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অভিযান চলাকালে জেলা প্রশাসক স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করেন। একই সঙ্গে ড্রেনে প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার নির্দেশ দেন তিনি। বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিকল্প নেই। মশা ধনী-গরিব কিংবা ছোট-বড় কাউকে আলাদা করে কামড়ায় না। তাই নিজেদের সুরক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসের একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার এই উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে চায় জেলা প্রশাসন। পরিবর্তনের সূচনা নিজেদের ঘর থেকেই করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকেরা নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখলে পরিচ্ছন্ন নেত্রকোনা গড়ে তোলা সম্ভব। এ আন্দোলন আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে স্কাউট সদস্যদেরও মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও নেত্রকোনা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। পৌর শহরের পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়েও এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, নেত্রকোনা জেলায় প্রায় ২৫ লাখ মানুষের বসবাস। সীমিত জনবল দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা করা পৌরসভার একার পক্ষে কঠিন। এ কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন