প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বুড়িগঙ্গা এবং তুরাগ নদীর দূষণ বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন পরিবেশ বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
আজ বৃহস্পতিবার, রাজধানীর আগারগাঁওতে অনুষ্ঠিত পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালসমূহে পতিত শিল্প, পয়ঃ ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে শিল্প মালিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য। কারখানার দূষিত পানি খাল বা নদীতে পতিত না হতে দেয়ার জন্য ইটিপি স্থাপন করা প্রয়োজন। দেশে সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব, পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সমন্বিতভাবে কোনো কাজ করা না হলে তা টেকসই হয় না।
দেশের শীর্ষ শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও এফবিসিসিআই-র প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জবাবে উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে এবং অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি হলে সেটি মেনে নেওয়া হবে না। ইটিপিতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর বিষয়েও তারা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন হলো বুড়িগঙ্গাকে টেমস নদীতে রূপান্তর করা। যদি সবাই একসাথে মিলিত হয়ে কাজ করেন, তবে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বা শীতলক্ষ্যাকে লন্ডনের টেমস নদীর মতো গড়ে তোলার লক্ষ্যে সফল হওয়া সম্ভব। সেজন্য বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি তুরাগের উজানের নদী দূষণ রোধে কাজ করা হবে।
তিনি আরও জানান, গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হবে এবং পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জাহাজ পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী সভায় ‘বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা’ উপস্থাপন করে। এতে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
সভায় উল্লেখ করা হয়, বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীতে মোট ২২৪টি বর্জ্য নিঃসরণের উৎসমুখ চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে বুড়িগঙ্গায় ১৬৬টি এবং তুরাগে ৫৮টি উৎসমুখ রয়েছে, যা বিভিন্ন বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকা ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
সভায় শিল্পবর্জ্যের উৎসভিত্তিক তালিকা তৈরি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর ইটিপি স্থাপন ও পরিচালনা নিশ্চিত করা, অনুমোদনহীন ড্রেন শনাক্ত ও বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। তাই খাল ও ড্রেন থেকে বর্জ্য অপসারণ করে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার ওপরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। খাল ও ড্রেনেজের পাশে প্রয়োজনীয় অনুযায়ী এসটিপি, ইটিপি ও ওয়েস্ট টু এনার্জি প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়টিও কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পবর্জ্যসহ সকল বর্জ্যের উৎসমুখ বন্ধ, খাল ও ড্রেনের বর্জ্য অপসারণ, পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
মতবিনিময় সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, রাজউকের চেয়ারম্যান (সচিব) ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, শিল্পমালিকদের সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ-এর নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবগণ, বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রতিনিধি, পরিবেশ সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন