প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফুটবল মাঠে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২২ বছর বয়সী এক তরুণী। পুরুষ ফুটবলারদের নিয়ে তার অধীনে চলছে অনুশীলন।
বয়স কিংবা নারী পরিচয়—কোনোটিই তার দায়িত্ব পালনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং, খেলোয়াড়দের কাছ থেকে তিনি একজন পুরুষ কোচের মতোই সম্মান ও সহযোগিতা পাচ্ছেন।
এই তরুণীর নাম জেইনেপ মেস্তান। এত অল্প বয়সে ছেলেদের একটি ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি আলোচনায় এসেছেন। তার এই পদক্ষেপ শুধু একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ফুটবলে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের নতুন সম্ভাবনা সামনে নিয়ে এসেছে।
জেইনেপ মেস্তান সম্প্রতি তুরস্কের মানিসা প্রদেশের সুপার অ্যামেচার লিগে খেলা তুরগুতলুসপোরের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমের জন্য তাকে নিয়োগ দিয়েছে ক্লাবটি। তিনিই তুরগুতলুসপোরের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধান কোচ।
কে এই জেইনেপ মেস্তান?
জেইনেপ মেস্তানের জন্ম ২০০৪ সালের ৩০ জুলাই, তুরস্কের ইজমির প্রদেশের বর্নোভা জেলায়। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে কোচিংকেই নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন।
মেস্তান এজে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিজ্ঞান অনুষদ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনের পাশাপাশি খেলাধুলাবিষয়ক শিক্ষা ও কোচিংয়ের প্রতি আগ্রহ তাকে এই পেশায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
এক সাক্ষাৎকারে মেস্তান জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে তুলনামূলক কম বয়সে খেলোয়াড়ি জীবন থেকে সরে এসে কোচিংয়ের দিকে মনোযোগ দেন।
যেভাবে শুরু ফুটবল ক্যারিয়ার
২০১৯ সালে কারশিয়াকা স্পোরের হয়ে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার শুরু করেন মেস্তান। এরপর তিনি কোনাক বেলেদিয়েসপোর, বর্নোভা হিতাব স্পোর, সোমা জাফের স্পোর ও জেনচলিক এবং বর্নোভা জেনচ ইলদিজলার স্পোরের হয়ে খেলেছেন।
দলকে কোচিং করানোর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন জেইনেপ মেস্তান। ছবি: সংগৃহীত
নারীদের ফুটবলে বিভিন্ন দলে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জনের পর কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন মেস্তান। নারী ও পুরুষ—উভয় দলের সহকারী কোচ হিসেবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এরপর এল ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। গত সেপ্টেম্বরে তুরগুতলুসপোরের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পান মেস্তান। মাত্র ২২ বছর বয়সে ছেলেদের সিনিয়র দল পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে তুরস্কের ফুটবলে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই তরুণী।
খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পাচ্ছেন সম্মান
একজন নারী কোচ হিসেবে পুরুষ ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? এ প্রশ্নের উত্তরে মেস্তান বলেন, ‘খেলোয়াড়েরা আমার সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করে। একজন পুরুষ কোচের সঙ্গে তারা যেভাবে কাজ করে, আমার সঙ্গেও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। তাদের কারও আচরণে আমাকে ছোট করে দেখার কিংবা আমার প্রতি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের কোনো ইঙ্গিত আমি পাইনি। সবার চোখেই আমি সেই আগ্রহের ঝলক দেখেছি।’
লক্ষ্য তুরগুতলুসপোরকে এগিয়ে নেওয়া
একসময় তুরস্কের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে খেলা তুরগুতলুসপোর সাম্প্রতিক সময়ে অবনমনের মুখে পড়ে। বর্তমানে দলটি মানিসা সুপার অ্যামেচার লিগে খেলছে। ক্লাবটির লক্ষ্য আবারও উচ্চতর পর্যায়ে ফিরে আসা।
দায়িত্ব নিয়েই দলকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন মেস্তান। তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্য নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করা এবং প্লে-অফে ভালো ফল করে পরবর্তী উচ্চতর লিগে জায়গা করে নেওয়া।
কিংবদন্তি কোচদের মধ্যে পেপ গার্দিওলা এবং তুরস্কের কোচদের মধ্যে সেরজেন ইয়ালচিনকে নিজের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মেস্তান।
ফুটবলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার আশা
শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়াই নয়, তুরস্কের ফুটবলে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়েও আগ্রহী মেস্তান। তার বিশ্বাস, নারীরাও ফুটবলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।
খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান দেখানোকে নিজের কোচিং দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন মেস্তান। তার মতে, ‘একজন কোচ খেলোয়াড়কে সম্মান না করলে খেলোয়াড়ের কাছ থেকেও সম্মান আশা করতে পারেন না।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন