প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
এক হাতে ছাতা এবং অন্য হাতে কলম। সামনে পরীক্ষার খাতা এবং মাথার ওপর দিয়ে টপটপ করে ঝরছে বৃষ্টির পানি। এমন অস্বাভাবিক ও দুর্ভোগের মধ্যে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের।
সোমবার (১৩ জুলাই) এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে টানা বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় পরীক্ষা দেন। কেউ এক হাতে ছাতা ধরে অন্য হাতে লিখছেন, আবার কারও বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা বৃষ্টির পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
সূত্র জানায়, চিকনিকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসাটি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হলেও কাজটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে শেষ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি প্রায় ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ভবনের ছাদে অসংখ্য ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সেখান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে শ্রেণিকক্ষে। বিভিন্ন স্থানে পলেস্তরা খসে পড়ছে, দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল শেখ মুগ্ধ বলেন, 'প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমাদের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে বেঞ্চ ও পরীক্ষার খাতা ভিজে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে মাথার ওপর ছাতা ধরে পরীক্ষা দিচ্ছি।'
আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, 'ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে স্বাভাবিক সময়েও ক্লাস করা কঠিন। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে এবং মাঝে মাঝে পলেস্তরাও খসে পড়ে। সব সময়ই দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে ক্লাস করতে হয়।'
মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মো. ইয়াহিয়া খান বলেন, 'এই প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। অথচ তাদের জন্য নিরাপদ ও শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ নেই। টানা বৃষ্টিতে শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় দিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। ভবনের বেহাল অবস্থার কারণে পাঠদান এবং পরীক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।'
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ বলেন, 'আমরা অত্যন্ত বিব্রতকর ও অসহায় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করে হস্তান্তর করা হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হবে।'
এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি নতুন বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ধীরগতিতে কাজ চলায় কবে নাগাদ ভবনটি ব্যবহার উপযোগী হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, 'বিষয়টি আজই আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন