প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম মন্তব্য করেছেন যে, গণ-অভ্যুত্থানের পর সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কথা হয়েছিল। নির্বাচন সম্পন্ন হলেও, সংস্কার ও বিচার এখনও বাকি রয়ে গেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সংলগ্ন পলাশী চত্বরে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের পাদদেশে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের বিচার যেমন জরুরি, তেমনি অতীতে দমন-পীড়ন, গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের বিচারও প্রয়োজন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবরার ফাহাদের শাহাদাতের সঙ্গে এসব বিচারের বিষয়ও সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার আমলে আবরার ফাহাদের শাহাদাতের ঘটনা ঘটেছে, তখন আমাদের অবস্থান ছিল যে, বাংলাদেশকে ভেতর থেকে স্বাধীন করতে হবে। আজও আমাদের সামনে একই প্রশ্ন বিদ্যমান। ভারতের দিক থেকে উপনিবেশ ও সম্প্রসারণবাদের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। তবে জনগণের রাজনৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতার মধ্যে যদি উপনিবেশের প্রতি আকাক্সক্ষা বা আত্মীয়তা থাকে, তাহলে বাইরের কেউ দেশকে উপনিবেশ বানানোর প্রয়োজন হয় না।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম বলেন, আমাদের লড়াই জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি পর্ব অতিক্রম করেছে। সামনে আমাদের লড়াই আট স্তম্ভের বিষয়গুলো নিয়ে হচ্ছে, যা সার্বভৌমত্ব, জাতীয় সম্পদ রক্ষা এবং গণতন্ত্রের প্রশ্ন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে গঠিত কমিশনের তথ্য এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বহু মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তিদের বিচারের দাবিও সামনে রাখেন। শহীদ আবরার ফাহাদ আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল এই বিচারের জন্য। তিনি মনে করেন, শহীদ আবরার ফাহাদের বিচারের সঙ্গে সঙ্গে অন্য যেসব মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত হয়েছি এবং গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে আসতে পারছি, তাদেরও স্মরণ করা উচিত। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মাহফুজ বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদ, লুটপাট, দুর্নীতি এবং দেশকে বিক্রি করে দেওয়ার যে রাজনীতি, সে রাজনীতির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
স্মরণসভায় কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকতউল্লাহ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন