প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া চলতি থাকা অবস্থায়, আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ থাকবে।
তিনি বলেন, তবে একটি দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে আদালত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) এখতিয়ার।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সাংবাদিকদের মুকাবেলায় নিজের মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এ সময়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত যদি দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আসে, তবে সেটি আইন ভঙ্গকারী কাজ হিসেবে গণ্য হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান উল্লেখ করেন, ‘আওয়ামী লীগ দলটি নিষিদ্ধ হবে কি হবে না, তা ক্লিয়ার করে বলা দরকার। এটি আদালতে নির্ধারিত হবে।’
এ ব্যাপারে তিনি যোগ করেন, আইসিটিতে তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিচারের ফলাফল অনুযায়ী তা নির্ধারিত হবে। তবে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেহেতু তারা বিচারাধীন অবস্থায় থাকবে, সেই পর্যন্ত তাদের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকবে।
যদি দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, যদি এই দলটি কোনো কর্মসূচি নিয়ে মাঠে আসতে চাই, তার মানে হবে তারা একটি আইনভঙ্গকারী কাজ করছে। স্বাভাবিকভাবেই সরকার সেখানে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মাঠের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নের নৈতিক সাহস নেই মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না যে আওয়ামী লীগের সেই রকম নৈতিক সাহস থাকতে পারে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, চোরের মায়ের বড় গলা। জুলাই ও আগস্টে মানুষ যেভাবে বন্দুকের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল, কারণ তারা নিজেদের মন পরিষ্কার রেখেছিল। তারা দেশকে ভালোবেসেছিল। তবে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর-বাটপারদের সেই নৈতিক সাহস থাকে না। তাদের সেই সক্ষমতা নেই।
ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে তিনি জানিয়েছেন, যদিও আওয়ামী লীগের বড় কিছু করার সক্ষমতা নেই, তবুও তাদের কাছে প্রচুর অবৈধ টাকা রয়েছে। এই টাকা দিয়ে তারা যাতে হঠাৎ কোনো নাশকতা বা সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে, তাই সরকারের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়া জেলাগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রেখেছে। এটি বোঝাতে পারেনা যে আওয়ামী লীগ অনেক কিছু করতে পারবে, সরকার এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রহণ করেছে।
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি ‘চেক লিস্ট’ ও গণতান্ত্রিক পেরিমিটারের ব্যাখ্যা দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক হতে হয়। জুলাইয়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে তারা সংগঠন হিসেবে জড়িত ছিল কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। এটি পুরোপুরি একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। তবে সভ্য দেশের নাগরিক হিসেবে আদালতের যে রায় হবে, আমাদের সবাইকে তা মেনে নিতে হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নির্দলীয় বা দলীয় প্রতীক ছাড়া হবে, সেহেতু এখানে আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। অতীতে যদি কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত থেকেও থাকে, তবে যদি তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হন কিংবা তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকে, তিনি ব্যক্তি হিসেবে অংশ নিতে পারবেন। কিন্তু কোনো দলীয় ব্যানার, স্লোগান বা দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আসতে পারবেন না। অপরাধী হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে।
ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন