প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের অর্থায়নে পরিচালিত একটি তেল কোম্পানি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের সরকারের অনুমতি ছাড়াই খনিজ তেল অনুসন্ধানের ভারী যন্ত্রপাতি পাঠিয়েছে।
উত্তর মেরুর স্পর্শকাতর এলাকায় কোনো প্রকার পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে এই সরঞ্জাম পৌঁছানোর ঘটনা বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি ভূখণ্ড দখলের বদলে এই বাণিজ্যিক অনুপ্রবেশ মূলত গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন প্রভাব বিস্তারের এক কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে।
ড্যানিশ অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্যানওয়াচ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি ড্যানিশ টাগবোট পারমাগ্রিন নামের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত নারলেরিট ইনাটের বন্দরে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি এক্সকাভেটর এবং তেল অনুসন্ধানের কাজ সমর্থনের উদ্দেশ্যে ১৫টি কন্টেইনার ভর্তি নানা আধুনিক সরঞ্জাম খালাস করা হয়।
ডেনমার্ক ও স্থানীয় সরকারের অগোচরে এবং উপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই এই মালামাল বন্দরে পৌঁছানো হয়। পরবর্তী অনুসন্ধানে দেখা যায়, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এসব সরঞ্জাম পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'গ্রিনল্যান্ড এনার্জি কোম্পানি'। নিম্নলিখিত তথ্য অনুসারে, সংস্থাটি দাবি করেছে যে জেমসোন ল্যান্ড নামক সংরক্ষিত এলাকায় তেল অনুসন্ধানের সুবিধার্থেই এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।
তবে গ্রিনল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে উক্ত অঞ্চলে কোনো ধরণের কার্যক্রম চালানোর জন্য কোম্পানিটিকে প্রয়োজনীয় অনুমতি বা লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।
গ্রিনল্যান্ড সরকারের কোনো অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও টেক্সাসের এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বিষয়টি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ধরে নিয়ে প্রচার শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল উত্তোলনের জন্য তৈরি বড় বড় যন্ত্রপাতির ছবি প্রকাশ করে তারা জানিয়েছে, কার্যক্রম শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কানাডা থেকে অতিরিক্ত ৩০০ কন্টেইনার যন্ত্রপাতি নিয়ে আরেকটি জাহাজ পৌঁছানোর কথা এবং আগামী অক্টোবর মাস থেকেই তারা পরীক্ষামূলক খনন শুরু করার পরিকল্পনা করছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে।
পরিবেশগত ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে ২০২১ সালে গ্রিনল্যান্ড সরকার সব ধরনের নতুন তেল খনন লাইসেন্স দেওয়া স্থগিত ঘোষণা করেছিল। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘৮০ মাইল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পুরোনো একটি অনুসন্ধান অধিকার বহাল ছিল। মার্কিন কোম্পানি গ্রিনল্যান্ড এনার্জি মূলত ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের ওই জমির অর্থায়ন করে অর্জিত লাভের ৭০ শতাংশ হস্তগত করার চুক্তি করেছে।
তা সত্ত্বেও স্থানীয় পরিবেশ ও জ্বালানি সংক্রান্ত প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া তারা সেখানে কোনো ড্রিলিং চালাতে পারবে না বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। প্রকল্পটির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা দাবি করছেন, জেমসোন ল্যান্ড বেসিনে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলার মূল্যের অপরিশোধিত খনিজ তেল মজুদ রয়েছে। বিপুল সম্পদের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কোম্পানিটি তাদের প্রথম পরীক্ষামূলক কূপ খননের কাজে অন্তত ৬০ মিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
পাঁচ দশকের চেষ্টার পরও যেসব এলাকা থেকে সাফল্য আসেনি, সেখানে মার্কিন প্রযুক্তির জোরে বিশাল জ্বালানি ভাণ্ডারের সন্ধান মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন কোম্পানির প্রধানরা। রহস্যজনক বিষয় হলো, গ্রিনল্যান্ড এনার্জি গঠিত হওয়ার পরপরই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুগত রাজনীতিকদের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে।
গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো মার্কিন বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি সম্প্রতি অঞ্চলটি সফর করে একে আমেরিকান নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলেন এবং মার্কিন কোম্পানির তেল উত্তোলনের পক্ষে বড় বার্তা দেন। এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যারল ক্রেগ এবং প্রখ্যাত আমেরিকান মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের কোম্পানিটিতে যুক্ত করা বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জুড়ে চরম রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প একাধিকবার গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিক নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য দাবি করে তা অধিগ्रहণের কিংবা প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। কোপেনহেগেন ও নুক প্রশাসন কঠোরভাবে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, আমেরিকান এই তেল কোম্পানির একতরফা তৎপরতা প্রমাণ করে যে সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা না করেই যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে স্থায়ী একটি ভিত্তি গড়ে তুলতে চাইছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন