প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্দেশ্য কেবল প্রযুক্তি নির্ভরতা বা সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন নয়, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়, দক্ষতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করে নাগরিকদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা, এমন মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ‘ই-ফেক্টিভ ই-গভর্ন্যান্স: অ্যাক্সিলারেটিং ই-গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। জাতীয় ডেটা গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল রূপান্তর ও জাতীয় দায়িত্বশীল ডেটা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির সহযোগিতায় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গেটওয়ে উদ্যোগের অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের আলাদা ডিজিটাল ব্যবস্থা থাকলেই ডিজিটাল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। নাগরিকদের কাছ থেকে একই তথ্য বারবার সংগ্রহ না করে অভিন্ন সক্ষমতা, আন্তঃকার্যক্ষমতা ও জাতীয় ডেটা বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে উল্লেখ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং অনুমোদিত তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তঃকার্যক্ষমতা শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুশাসন, অভিন্ন মানদণ্ড, জবাবদিহিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাও জড়িত।
তিনি বলেন, নাগরিকের কাছে সরকার কোনো বিচ্ছিন্ন মন্ত্রণালয় বা তথ্যভান্ডার নয়; বরং সরকার একটি সমন্বিত সেবা ব্যবস্থা। তাই সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোকে পরস্পর সংযুক্ত একটি পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা আবশ্যক। তথ্য বিনিময়ে নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রকল্পে পুনরাবৃত্তি কমিয়ে যৌথভাবে ব্যবহারযোগ্য জাতীয় সক্ষমতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আইন ও নীতিমালা, নিরাপদ সংযোগ, ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সাইবার নিরাপত্তা ও দক্ষ জনশক্তি এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদন- এই পাঁচটি ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। শক্তিশালী ডিজিটাল জনপরিকাঠামো, নিরাপদ ডেটা বিনিময় ও উন্মুক্ত অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস নিশ্চিত করে তরুণদের প্রযুক্তি উদ্ভাবনে যুক্ত করা হবে। স্টার্টআপ খাতে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সঠিক নীতি, দক্ষ জনশক্তি ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ইলেকট্রনিকস উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সেমিনারে সমন্বিত ডিজিটাল রূপান্তর, ডিজিটাল সরকারের ডেটার মালিকানা, দায়িত্বশীলতা ও আস্থা এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের ভিশন ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশস্থ প্রতিনিধি দলের হেড অব ইউনিট ও হেড অব কো-অপারেশন মাইকেল ক্রেইজা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক নাহিদ সুলতানা মল্লিক, ই-গভর্ন্যান্স একাডেমির ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্য ইনগ্রিড টুনেকুর্গ, ইজিএর হেড অব ডিজিটাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড সলিউশনস কম্পিটেন্স সেন্টার আরভো অট, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার সচিব ফারাহ শাম্মী এনডিসি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন