প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই দ্বারা রচিত বইয়ের জন্য একটি নতুন সাহিত্য পুরস্কার চালু করা হয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার নাম প্রি পাস্কাল দ্য লিতেরাত্যুর আইএ। এআই প্রযুক্তির সাহায্যে যৌথভাবে লেখা পাণ্ডুলিপি জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে পুরস্কার বিজয়ীর বইটি প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। প্রতিযোগীদের ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার শব্দের মধ্যে একটি অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জমা দিতে হবে। এ ছাড়া, লেখাটি তৈরিতে ব্যবহৃত এআই মডেল ও প্রম্পটের বিস্তারিত তথ্যও জানাতে হবে।
চ্যাটজিপিটি, ক্লড, জেমিনাই এবং লামা-র মতো প্রধান ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর ব্যবহার অনুমোদিত হয়েছে। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের লেখকরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তবে পাণ্ডুলিপি অবশ্যই ফরাসি ভাষায় হতে হবে।
এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে ফরাসি বহুমুখী প্রতিভাবান পণ্ডিত ব্লেইজ পাস্কালের নামে। তিনি বিশ্বের প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটরের উদ্ভাবনে সহায়তা করেছিলেন। ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে 'পঁসে' অন্যতম। পোপ ফ্রান্সিস বইটির "দার্শনিক গভীরতা ও সাহিত্যিক মাধুর্যের" প্রশংসা করেছেন।
পুরস্কারের শর্তাবলিতে ফিকশন জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও, একটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। জমা দেওয়া লেখায় মানবজাতির জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো নৈতিক, সামাজিক বা পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে সহায়ক কিছু থাকতে হবে।
ফিলিপ রদ্রিগেজ, আলব্যাঁ সেরভিয়ঁ ও জিল মঁত্রে এই পুরস্কারটি প্রবর্তন করেছেন। তারা তিনজনই প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা। রদ্রিগেজ ব্যবসায়িক একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অ্যাভোল্টা-র প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার। ওয়েবসাইটে তাকে "ইউরোপীয় ক্রিপ্টো ও ব্লকচেইন শিল্পের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সেরভিয়ঁ একজন ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোক্তা এবং এলজিবিটিকিউ+ বিষয়ক ম্যাগাজিন 'তেতু'-র সাবেক চেয়ারম্যান। মঁত্রে একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, দর্শনে পিএইচডি ডিগ্রিধারী, যিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও প্যারিস ১ পঁতেঁ-সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। মঁত্রে অনলাইন ভোটিং প্ল্যাটফর্ম ইলেক্টিস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা।
চলতি বছর বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারের চূড়ান্ত পর্বের প্রতিযোগী ও বিজয়ীদের বিরুদ্ধে লেখায় এআই ব্যবহারের সম্ভাব্য অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। এর মধ্যে কমনওয়েলথ ছোটগল্প পুরস্কার, কেইন পুরস্কার ও ফ্রান্সের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার প্রি গোঁকু-র নাম রয়েছে। এসব বিতর্কের মধ্যে প্রি পাস্কাল চালুর ঘোষণা এসেছে।
গত মঙ্গলবার থেকে প্রি পাস্কালের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা নভেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলবে।
ডিসেম্বরের শুরুতে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণার আগে ১০টি বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করা হবে। পাঁচ থেকে ছয়জন লেখক, সমালোচক, সাংবাদিক, দার্শনিক ও প্রকাশকের সমন্বয়ে একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হবে। নভেম্বরের শুরুতেই এই বিচারকদের নাম ঘোষণা করা হবে। তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন