প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পূর্ণিমার ভরা কোটালের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ইতোমধ্যে স্থল নিম্নচাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করলেও এর প্রভাবে বরিশাল অঞ্চলের বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। অন্যান্য নদ-নদীগুলোর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালের সব নদ-নদীর পানি অন্তত ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। উজানের ঢলের পানি এবং শুক্রবার সকালের পূর্ববর্তী ৭২ ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ মিলিমিটার বৃষ্টির ফলে বরিশাল অঞ্চলের বিপুল ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হাইড্রোলজি উপ-বিভাগের ১৮টি গেজ স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ জোয়ারের সময় অন্তত ৮টি স্থানে মেঘনা, তেতুলিয়া, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।
বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৭ লাখ হেক্টর জমিতে আমন রোপণ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু অনেক জমি জোয়ারের পানি এবং আশ্বিনের বর্ষণে নিমজ্জিত হয়েছে। বরিশাল মহানগরীর পাশে প্রবাহিত কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারের কারণে নগরীর নবগ্রাম রোডসহ বেশ কিছু রাস্তা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া বালুর মাঠ ও রসুলপুর বস্তি সহ আরো কিছু নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠির বিষখালী ও সুগন্ধা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, তজুমদ্দিনের মেঘনা ও সুরমা, বেতাগীর বিষখালী, উমেদপুরের কঁচা ও হিজলার ধর্মগঞ্জ বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছিল। বরিশালের কীর্তনখোলা, ভোলা খেয়াঘাটের তেতুলিয়া, মির্জাগঞ্জের পায়রা ও শ্রীমন্ত, বরগুনার বিষখালী ও খাকদোন, দৌলতখানের মেঘনা, পাথরঘাটার বিষখালী, বাকেরগঞ্জের তুলাতলা নদ-নদীগুলো বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে, নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং ক্রমে দুর্বল হচ্ছে। তবে মৌসুমি বায়ু বরিশালসহ স্থলভাগে মাঝারি অবস্থায় এবং সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।
শুক্রবার সকালের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে প্রায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ মিলি। নিম্নচাপটি আরো দুর্বল হয়ে সাগর কিছুটা শান্ত হওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের প্রবণতা হ্রাস পেলে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদ-নদীর পানি হ্রাস পেয়ে ফসলি জমি প্লাবনমুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন