প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
৯ বছর পর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল, ৫–৬ লাখ মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা
আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ২০২৬ কুয়াকাটা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? তাহলে আবাসন নিয়ে আগেই সতর্ক হোন। তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন কার্নিভালকে কেন্দ্র করে ওই দুই দিনের জন্য কুয়াকাটার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ সম্পূর্ণ বুকিং হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলোতে খোঁজখবর নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে নির্ধারিত দুই দিনে নতুন করে কক্ষ পাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে। আবাসন নিশ্চিত না করে কুয়াকাটার উদ্দেশে যাত্রা করলে পর্যটকদের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
দীর্ঘ ৯ বছর পর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী ‘কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬’। আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেগা উৎসবকে ঘিরে পর্যটন নগরীজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সামনে তুলে ধরা এবং দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও গতিশীল করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় ৫ থেকে ৬ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের সম্ভাব্য উপস্থিতিকে ঘিরে আবাসন, যাতায়াত, খাবার, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা ব্যবস্থাপনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষের আগাম বুকিং সম্পন্ন হওয়ার তথ্য পাওয়ায় পর্যটকদের আবাসন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কার্নিভালকে সামনে রেখে তালাশ বিডির পক্ষ থেকে কুয়াকাটার কয়েকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের জন্য কক্ষের আগাম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ওই দুই দিনে নতুন করে আবাসন পাওয়া পর্যটকদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণ, শিশুদের সঙ্গে অবস্থান কিংবা বয়স্ক ব্যক্তিদের নিয়ে কুয়াকাটায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা পর্যটকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আবাসন নিশ্চিত না করে গন্তব্যে পৌঁছালে কক্ষ খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর আয়োজিত এ কার্নিভালে থাকছে বিচ ম্যারাথন, বিচ ফুটবল, বিচ ভলিবল এবং শিশুদের জন্য বিচ ক্রিকেট। পাশাপাশি ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
এসব আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি কুয়াকাটার স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য শিশুদের কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
কার্নিভালে থাকছে সামুদ্রিক খাবার বা সি-ফুড এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশেষ উৎসব। এর মাধ্যমে স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ। কার্নিভালে অংশ নিতে আসা দর্শনার্থীরা উৎসবের নানা আয়োজন উপভোগের পাশাপাশি সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও উপভোগ করতে পারবেন।
পর্যটন কার্নিভালকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষের সম্ভাব্য আগমন স্থানীয় হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এত বড় জনসমাগম সামলাতে আবাসন, যাতায়াত, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, আবাসন ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে আবাসন প্রতিষ্ঠানের বুকিং ও ভাড়াসংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে জানানো হলে পর্যটকেরা আগাম পরিকল্পনা করতে পারবেন।
পর্যটকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ: ২৩ ও ২৪ অক্টোবর কুয়াকাটা ভ্রমণের আগে আবাসনের বিষয়টি নিশ্চিত করুন। তালাশ বিডির অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টের কক্ষ সম্পূর্ণ বুকিং হয়েছে। তাই যাত্রার আগে আবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন