প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিণত হচ্ছে বরিশাল। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই কালীবাড়ি রোড, ভাটিখানা, কাউনিয়া জানুকী সিংহ রোড, বগুড়া রোড, সদর রোড, বটতলাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যত্রতত্র ভবন নির্মাণ এবং বছরের পর বছর ধরে খাল, পুকুর ও জলাশয় ভরাটের কারণে বরিশাল নগরীর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এক সময় নগরীর বিভিন্ন খাল, পুকুর ও জলাশয় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও বর্তমানে সেগুলোর অনেকগুলোই দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে দীর্ঘ সময় স্থায়ী হচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর বটতলা, বগুড়া রোড, ভাটিখানা ও কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বৃষ্টির পর সড়কে জমে থাকা পানি নামতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বটতলা মার্কেটের ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই বটতলা এলাকার মুনসুর কোয়ারটা থেকে চৌমাথা পর্যন্ত সড়কে ব্যাপক পানি জমে যায়। এই পানি নামতে অনেক সময় লাগে। ফলে ক্রেতারা দোকানে আসতে পারেন না এবং আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়।
নগরীর বগুড়া রোড এলাকার একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক জানান, নগরীতে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই বলেই সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তখন আমাদের পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ক্রেতা সমাগমও কমে যায়।
পরিবেশবিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, নগরীর প্রাকৃতিক জলাধার ও খালগুলো সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা দ্রুত খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরবাসীর দাবি, বরিশালকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে হলে খাল-পুকুর রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন