প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : অবস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দূরত্ব চার হাজার মাইলের বেশি। সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনযাত্রায় রয়েছে বিস্তর ফারাক। কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখন দেশ দুটির পতাকা স্ব-গৌরবে ওড়ে, তখন দুদেশের পতাকার মাঝখানের সাদৃশ্য সবার চোখে ধরা পড়ে। একটি পতাকার পটভূমি শান্ত সাদা, অন্যটির সতেজ গাঢ় সবুজ। তবে উভয়ের বুকেই টকটকে লাল বৃত্ত।
বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকার দৃশ্যত নকশা কাছাকাছি মনে হলেও, এই দুই পতাকার রঙের ভাষা ও পেছনের গল্পে লুকিয়ে আছে নিজ নিজ জাতির আত্মত্যাগ, পুনর্জন্ম ও বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়ানোর ভিন্ন ভিন্ন ইতিহাস।
জাপানের জাতীয় পতাকাকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘হিনোমারু’ (Hinomaru), যার অর্থ ‘সূর্যের বৃত্ত’। এর সাদা পটভূমি জাপানি সংস্কৃতির সততা, পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক। মাঝের লাল বৃত্তটি প্রতিনিধিত্ব করে উদীয়মান সূর্যের। প্রাচীনকাল থেকেই জাপান ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ হিসেবে বিশ্বে পরিচিত, আর তাদের জাতীয় পতাকা সেই পরিচয়েরই ঐতিহাসিক ধারক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পতাকার গাঢ় সবুজ পটভূমি এদেশের গ্রাম বাংলার চিরসবুজ প্রকৃতি, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস এবং নবীন প্রাণের শক্তির প্রতীক। আর মাঝের লাল বৃত্তটি নির্দেশ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লাখো শহীদের তাজা রক্ত এবং পরাধীনতার অন্ধকার ভেদ করে উদিত হওয়া স্বাধীনতার নতুন সূর্যকে। জাপানের লাল বৃত্ত যেখানে শান্তির বুকে উদীয়মান সূর্য, বাংলাদেশের লাল বৃত্ত সেখানে রক্তস্নাত স্বাধীনতার প্রতীক।
এক পলকে দেখতে প্রায় অভিন্ন লাগলেও, দুই দেশের পতাকার নকশায় একটি সূক্ষ্ম অথচ গুরুত্বপূর্ণ জ্যামিতিক পার্থক্য রয়েছে। জাপানের পতাকার লাল বৃত্তটি পতাকার একেবারে কেন্দ্রস্থলে (মাঝখানে) অবস্থিত। কিন্তু বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তটি ঠিক মাঝখানে নয়, বরং পতাকাদণ্ডের (বাঁ দিকে) দিকে সামান্য সরানো থাকে। এর পেছনে একটি ব্যবহারিক ও দৃষ্টিগত কারণ রয়েছে— পতাকা যখন পতাকাদণ্ডে বেঁধে ওড়ানো হয় এবং তা বাতাসে উড়তে থাকে, তখন লাল বৃত্তটিকে যেন ঠিক মাঝখানেই দেখা যায়, সে জন্যই এই অফসেট বা সরানো নকশাটি করা হয়।
সর্বোপরি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে জাপান যেমন বিশ্বের বুকে নিজের শক্তিমত্তার নতুন সূর্যোদয় ঘটিয়েছিল, তেমনি নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের পর বাংলাদেশ ছিনিয়ে এনেছিল মহান স্বাধীনতা। ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব ছাপিয়ে দুই দেশের পতাকার ‘লাল বৃত্ত’ কেবল কাকতালীয় নকশা নয়, বরং ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার প্রতীক। দুদেশের পতাকার অদ্ভুত মিল বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন