প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জুয়ার আসর থেকে দুই ইউপি সদস্যসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার গন্ডা বাজারের একটি দোকানঘরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় জুয়া খেলার তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হাফিজুর রহমান ওরফে খোকন (৬০) ও আলী ওসমান (৪২)। তাঁদের আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাদক উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযানে বের হয় কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল। উপপরিদর্শক (এসআই) খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে দলটি বুধবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে সাহিদপুর বাজার এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় গন্ডা বাজারে মোস্তফা নামের এক ব্যক্তির দোকানঘরে টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার খবর পায় পুলিশ।
পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নির্দেশে ভোর সোয়া ৪টার দিকে ওই দোকানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়ায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করলেও ছয়জনকে আটক করা হয়।
আটক অন্য চারজন হলেন গন্ডা চর গ্রামের খুররম মিয়া (৫০), মনকান্দা গ্রামের চান্দু মিয়া (৪৫), বীরমহুরী গ্রামের সোহাগ (৪৫) ও মরিচপুর গ্রামের মজিবুর রহমান (৬০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান খোকন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং আলী ওসমান আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। আটক সোহাগ উপজেলা বিএনপি ও খুররম মিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযানের সময় দোকানঘরের একটি টেবিল থেকে ১০৪টি তাস ও নগদ ১০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে তাস দিয়ে জুয়া খেলার কথা স্বীকার করেছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর ৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে গন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম কল্যাণ এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাদক ও জুয়া নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। আমার জানামতে, ইউপি সদস্যদের এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা নয়। তবে তাঁরা যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
(প্রকাশের আগে যাচাই করুন: ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর নাম, কার্যকারিতা ও ৪ ধারার প্রযোজ্যতা এবং আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন