প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও নরসিংদীর রায়পুরা মেঘনা নদীর নৌপথে বেড়েছে ডাকাতের দৌরাত্ম্য। ১৫ দিনের ৩-৪ বার মেঘনার এই নদী পথে হয়েছে ডাকাতি আতঙ্কে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের। তবে ডাকাতির বিষয়ে কিছুই জানেন না নৌপুলিশ।
কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ভৈরব বাজার একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। নদীপথে মালামাল বহনে খরচ কম এবং চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা থাকায় নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কয়েকটি অঞ্চলের প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ নদীপথে কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজে ভৈরব বাজারে যাতায়াত করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে গৌরীপুর গ্রামের মাঝি মনা মিয়া নৌকায় ৭-৮ জনের এক দল ডাকাত দল অস্ত্রসহ নৌকা আটকিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা, নারী যাত্রীদের স্বর্ণাংলকার ও মূল্যবান জিনিসপত্রসহ ১৮টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় যাত্রীদের মারধোর করে আহত করে পালিয়ে যায় ডাকাতদল। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার একটি পরিবারের সদস্যরা মিলে নদীপথে নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লালপুর এলাকার একটি মাজার জিয়ারত শেষে ভৈরবে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২টি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
কিছুদিন যাবত মেঘনা নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সাথে বিকাল বা সন্ধ্যার পর নদীতে নৌকার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের পারাপারেও দেখা দিয়েছে চরম দূর্ভোগ।
ঘাটের ভুক্তভোগী মাঝি মনা মিয়া বলেন, আমি ভৈরব বাজার ঘাটে ৫০ বছর যাবত নদীপথে নৌকায় যাত্রী পারাপার করছি। ইদানিং সন্ধ্যা হলেই মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে ব্যবধানে ৩/ ৪ বার আমরা ভৈরব বাজারের কাছাকাছি স্থানে ডাকাতির কবলে পড়তে হয়েছে । ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে যাত্রী এবং আমাদের কাছ থেকে সব কিছু নিয়ে যাচ্ছে প্রায়ই ছেলে মেয়ে নিয়ে বিপদে পরতে হচ্ছে। কেউ পানিতে লাফিয়ে জীবন বাচানোর চেষ্টা করছে আবার কেও অনেক মারধরের ও শিকার হচ্ছেন।
ভৈরব বাজার ঘাটের মাঝি কাসেম মিয়া বলেন, ভৈরব বাজারে কেনাকাটার পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চলের অনেক মানুষ ব্যবসার কাজেও এসে থাকেন। যার ফলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সন্ধ্যার পর বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে হয়। নদীতে দিনে মাঝে মধ্যে পুলিশের দেখা পেলেও সন্ধ্যার পর পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। যার ফলে নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ইদানীং মেঘনায় ডাকাতের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়েছে আমরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হচ্ছি। ১৫ দিনের মধ্যে ৩-৪বার এই পথে ডাকাতের আক্রমণ হয়েছে এতে অনেকে অনেক কিছু হাড়িয়েছে। আবার মহিলাদেরকেও অনেক বিপাকে পরতে হয়। ডাকাত আতঙ্কে নৌ পথে চলাচল অনেকটাই কঠিন হয়ে পরেছে।
রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাহিম মিয়া বলেন, আমি ভৈরব বাজারে ব্যবসা করি। সারাদিন ব্যবসার কাজ শেষে নৌকা দিয়ে নিজের বাড়িতে যেতে হয়। কাজ শেষে বাজার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথে বার বার ডাকাতের আক্রমণের শিকার হচ্ছি।
কিন্তু ইদানিং নৌপথে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে এতে আমরা খুবই আতংকিত থাকি। কখন ডাকাতের দল আমাদের উপর হামলা চালাই। গত ১৫ দিনে ৩টির বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি দিনে এবং রাতে নির্দিষ্ট সময় অবধি পুলিশ নদীতে টহলে থাকলে হয়তোবা আমরা নদীপথে ডাকাতের আক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবো।
বিষয়ে ভৈরব নৌ পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম মনিরুজ্জামান বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম নদীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।এর আগে নদীতে ডাকাতির বিষয়ে উনি জানেন না। ডাকাতির ঘটনা কোথায় কবে ঘটেছে এই বিষয়ে উনি কিছুই জানেন না উনাকে কেও অবগত করেননি। তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে নদীতে চলাচল নিষেধ। তাই কেউ যদি জরুরি কাজে রাতে নদীপথে চলাচল করতে চাই তাহলে তারা যদি আমাদের অবগত করে তাহলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবো।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন