প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জুলাই মাসে ব্রিটেনের সরকারের বাজেট অপ্রত্যাশিতভাবে ১৮০ কোটি পাউন্ড ঘাটতিতে পড়েছে। মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফলে এই ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।
এমন অবস্থায়, ব্যক্তিগত আয়কর থেকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা হলেও সরকারের আর্থিক ঘাটতি কমানো সম্ভব হয়নি।
অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন, এই জুলাইয়ে ব্রিটিশ সরকারের আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় একই থাকবে। রয়টার্সের করা এক জরিপে বাজেট ভারসাম্যে থাকার পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, সরকারের স্বাধীন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসদাতা প্রতিষ্ঠান বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয় (ওবিআর) জুলাইয়ে ৫০ কোটি পাউন্ড বাজেট উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
যদি সেই পূর্বাভাসটি সত্যি হতো, তাহলে করোনাভাইরাস মহামারির পর এই বছরের জুলাইয়ে ব্রিটেন প্রথমবারের মতো বাজেট উদ্বৃদ্ধি পেত। কিন্তু বাস্তবে সরকারের ব্যয় প্রত্যাশার তুলনায় বেশি হয়েছে।
ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর জানিয়েছে, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সামাজিক সুবিধা খাতে ব্যয় বেড়েছে ২০০ কোটি পাউন্ড। এছাড়া, পণ্য ও সেবা খাতেও সরকারের ব্যয় বেড়েছে ১২০ কোটি পাউন্ড।
এই খাতের মধ্যে সরকারি কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ের বিষয়টি রয়েছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে সরকার ব্যক্তিগত আয়কর থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সরকারি ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাড়তি রাজস্বও বাজেট ঘাটতি ঠেকাতে পারেনি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬৭০ কোটি পাউন্ড। এই সময়ের জন্য বাজেট দায়বদ্ধতা কার্যালয়ের পূর্বাভাস ৫৪৪০ কোটি পাউন্ড ছিল। এর মানে সরকারের প্রকৃত ঋণ পূর্বাভাসের ২৩০ কোটি পাউন্ড বেশী হয়েছে। এতে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার চাপ বেড়ে গেছে।
এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সরকারের বর্তমান বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৪৭০ কোটি পাউন্ড, যেখানে ওবিআরের পূর্বাভাস ছিল ৩৬৭০ কোটি পাউন্ড। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে এই ঘাটতি ভারসাম্যে আনতে হবে।
এই পরিসংখ্যান নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং অর্থমন্ত্রী জন হিলির সামনে থাকা অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি আরো পরিষ্কার করেছে। অর্থমন্ত্রী হিলি আগামী অক্টোবরের বাজেট তৈরির কাজ করছেন। সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা এবং একইসঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কিছু তথ্য প্রত্যাশার তুলনায় ভালো এসেছে। ফলে সরকারের জন্য কিছুটা ইতিবাচক পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। তবে, সরকারি ব্যয়, ঋণ ও বাজেট ঘাটতির চাপ কমানো সরকারের সামনে বড় বিষয় হয়ে থাকছে।
অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকবে আর্থিক শৃঙ্খলা। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আর্থিক শৃঙ্খলা আমাদের যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি।’ তিনি বলেন, সরকার তাদের নির্ধারিত আর্থিক নিয়ম মেনে চলবে। একইসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে তা মোকাবেলার জন্য সরকার একটি নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন