প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একইসঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এই মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
অন্যদিকে, মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে বাদী হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, "আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট, বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন।" তিনি আরো জানান, এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিলেন, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ মামলার রায় দিয়েছে। এ রায়ের ফলে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে।
এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন