প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কোস্টগার্ড সুন্দরবনের ডাকাত, জলদস্যু, বনদস্যু, চাঁদাবাজসহ সকল সন্ত্রাসী বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আহবান জানিয়েছে। সম্প্রতি এবং সর্বশেষ গতকাল বৃহম্পতিবার সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের জাহাজের উপর হামলার প্রেক্ষিতে কোস্ট গার্ড মোংলা স্টেশন জোনাল কমান্ডার, পশ্চিম জোনের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম, শুক্রবার সকালে এক ব্রিফিং এর মাধ্যমে এই আহবান জানান।
তিনি বলেন, বাগেরহাটের মোংলায় জয় মনি ঘোল এলাকায় কোস্টগার্ডের হারবারিয়া স্টেশনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। বাহিনীটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনসংলগ্ন ওই এলাকা বনদস্যু ও তাদের সহযোগীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। সেখানে কোস্টগার্ড স্টেশন স্থাপনের পর দস্যুদের কাছে রসদ, অস্ত্র, লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ায় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি তারা মেনে নিতে পারছে না।
বাহিনীটি জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার জয় মনি ঘোল এলাকায় অবস্থিত কোস্টগার্ড স্টেশনে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে দায়িত্ব পালনরত কয়েকজন কোস্টগার্ড সদস্য আহত হন। ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোনো অপপ্রচার, গুজব কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। আইন ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পরিচালিত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও একই দৃঢ়তা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।”
তিনি বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বনদস্যু ও জলদস্যু নির্মূল, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মংলা বন্দরের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম ও অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সব জলদস্যু ও বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ২৫০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, একটি ককটেল, একটি টেলিস্কোপ এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
একই সময়ে ৩৯ জন বনদস্যু ও জলদস্যুকে আটক করা হয়েছে। তাদের কবল থেকে ৪১ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে তাঁদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কোণঠাসা দস্যু বাহিনী: দাবি কোস্ট গার্ডের। কোস্টগার্ডের দাবি, ধারাবাহিক অভিযান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণের কারণে সুন্দরবনের সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
মেসবাউল ইসলাম বলেন, “কোস্টগার্ডের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযানের কারণে দস্যুরা এখন আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। তাদের চলাচল, অস্ত্র সরবরাহ, অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠন পরিচালনার সক্ষমতা কমে এসেছে।”
এই চাপের মুখেই সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘ছোট সুমন বাহিনী’র প্রধান সুমন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগীরা গত ১৭ মে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
তিনি বলেন, “আমরা সুন্দরবনের সব সক্রিয় ডাকাত ও দস্যুদের অপরাধের পথ পরিহার করে কোস্টগার্ডের কাছে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা যেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে। তবে কেউ যদি এ আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আত্মসমর্পণ করেও কেন ফিরছে কেউ কেউ। সম্প্রতি পুনরায় আত্মসমর্পণ করা সুমন বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে পুনর্বাসন-সংক্রান্ত নানা সমস্যা। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুমন বাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণের পর অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পান না। সমাজও তাদের সহজভাবে গ্রহণ করতে চায় না। সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত মানসিক সমস্যার কারণে কেউ কেউ আবার অপরাধের পথে ফিরে যায়।
তবে এবার আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও পর্যবেক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।
মৌসুম এলেই বাড়ে জলদস্যুতা। কোস্টগার্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সুন্দরবনে সারা বছর সমানভাবে দস্যুতা হয় না। ইলিশ ধরার মৌসুম, মাছ আহরণ মৌসুম এবং মধু সংগ্রহের সময় দস্যুদের তৎপরতা বেড়ে যায়।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বকেন, এসব সময়ে বিপুলসংখ্যক জেলে, মৌয়াল ও বনজীবী সুন্দরবনে প্রবেশ করেন। তাদের লক্ষ্য করেই অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে দস্যুরা। বর্তমানে সরকার ঘোষিত তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকায় বনজীবীদের প্রবেশ সীমিত রয়েছে। ফলে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও কমে এসেছে। তবে মৌসুম শুরু হলে দস্যুরা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে।
ছয় থেকে আটটি বাহিনী এখনও সক্রিয়। কোস্টগার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সুন্দরবনে ছয় থেকে আটটি দস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। প্রতিটি বাহিনীতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ কিংবা ১২ জন সদস্য থাকে। অনেক ক্ষেত্রে বড় বাহিনীগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে ছোট ছোট উপদল বা ‘ক্লোন’ বাহিনী তৈরি হয়। এসব বাহিনী মূলত জেলে ও মৌয়ালদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
সরু খালই তাদের আশ্রয়। সুন্দরবনের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এখনও দস্যুদের জন্য সুবিধাজনক বলে মনে করেন ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বনজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সরু খাল ও ন্যারো চ্যানেলকে আত্মগোপনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করে দস্যুরা। জোয়ারের সময় যেসব পথে নৌকা চলাচল করে, ভাটার সময় সেগুলোর অনেক অংশ শুকিয়ে যায়। ফলে বড় বোট বা জাহাজ নিয়ে সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।
তবে বর্তমানে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব দুর্গম এলাকাও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে মান্দারবাড়িয়া ও সাতক্ষীরা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সীমিত জনবল, তবু দিনরাত টহল। সুন্দরবনের বিশাল আয়তনের তুলনায় কোস্টগার্ডের জনবল এখনও প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেসবাউল ইসলাম বলেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগও থাকে না। দস্যুরা মাঝেমধ্যে এসব সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে ফাঁকা আউটপোস্টে হামলার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত অতিরিক্ত সদস্য পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক টহল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির কারণে দস্যুরা আগের মতো সংগঠিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ভুক্তভোগীদের নীরবতা বড় চ্যালেঞ্জ। দস্যুতা দমনে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে ভুক্তভোগীদের নীরবতাকে দায়ী করছেন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা।
তাদের মতে, অনেক জেলে অপহরণ বা মুক্তিপণের শিকার হলেও ভয়ে প্রশাসনকে বিষয়টি জানান না। প্রশাসনের দেওয়া ১৬০-সহ বিভিন্ন সরকারি নম্বর থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অভিযোগ করা হয় না। এই যোগাযোগ ঘাটতির সুযোগ নিতে দস্যুরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় জেলেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দস্যুদের প্রতিরোধ এবং ধরতে সহায়তা করেছেন বলেও জানান কর্মকর্তারা।
মুক্তিপণের টাকা হাতবদল হয় ডাঙ্গায়। অপহরণের ঘটনা বনের ভেতরে ঘটলেও মুক্তিপণের টাকা অনেক সময় মংলা, বরগুনা, পাথরঘাটা কিংবা খুলনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাতবদল হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে পাঠানো মুক্তিপণের অর্থের গতিপথ অনুসরণ করে একাধিক সহযোগীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বনের ভেতরের দস্যুদের পাশাপাশি স্থলভাগে থাকা সহযোগী চক্রের বিরুদ্ধেও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও স্থানীয় পর্যায়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরোক্ষ সহযোগিতার বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।
স্থানীয় অস্ত্র দিয়েই আতঙ্ক। ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, দস্যুদের হাতে থাকা অধিকাংশ অস্ত্রই স্থানীয়ভাবে তৈরি। পাইপগান, একনলা ও দোনলা বন্দুক বেশি দেখা যায়। এমনকি খেলনা পিস্তল ব্যবহার করেও জেলে ও বনজীবীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। তবে আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামে সজ্জিত কোস্টগার্ডের কারণে তারা এখন আগের মতো সুবিধা করতে পারছে না।
অস্ত্র যাচাইয়ে কঠোরতা। আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের জমা দেওয়া অস্ত্রের বিষয়ে কোস্টগার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। বলেন, কেউ যাতে একটি অস্ত্র জমা দিয়ে পেছনে আরও কয়েকটি অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর যাচাই-বাছাই করা হয়। পাশাপাশি তাদের কাছে কোনো প্রাণঘাতী অস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও নজর। জলদস্যু দমনের পাশাপাশি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাছের প্রজনন নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও কোস্টগার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত তিন মাসের পর্যটক প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন, অবৈধ মাছ আহরণ বন্ধ, বন্য প্রাণী শিকার প্রতিরোধ এবং বনজ সম্পদ পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নৌবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বন বিভাগসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানও পরিচালিত হচ্ছে।
মংলা বন্দরের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব। সুন্দরবনের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলা বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কোস্টগার্ড কাজ করছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্দর চ্যানেলে সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে বন্দর কার্যক্রম সচল, নিরাপদ ও গতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখছে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি। দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূলীয় অঞ্চল এবং নদীতীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধ দমনে কোস্টগার্ড সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, আধুনিক ড্রোন ও সার্ভেইলেন্স প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ ও যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন, উপকূলীয় অঞ্চল, সমুদ্রসীমা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীটি বদ্ধপরিকর। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ, অর্থনীতি ও জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন